ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহাসড়কে ছয় দিন লরি, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার (২৫ মে) থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
ডিএমপি বলেছে, ঈদযাত্রা ও পশুর হাটের আশেপাশে যানজট কমানো এবং যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। রুট পারমিটবিহীন বাসও নিষেধাজ্ঞার আওতায় হবে এবং সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো যাবে না। অনুমোদিত কাউন্টার ছাড়া রাস্তা থেকে যাত্রী নেওয়া-ফেলা করো যাবে না — আন্তঃজেলা বাসগুলোকে টার্মিনাল থেকে সরাসরি তাদের গন্তব্যে যেতে হবে।
তবে সাধারণ জনগণের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, পচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস পণ্য, ওষুধ, সার, জ্বালানি ও পশুবাহী যানবাহনকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে যাতে সরবরাহযন্ত্রণা না ঘটে।
রোববার (২৪ মে) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ঈদে আনুমানিক এক কোটি মানুষের বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়েন এবং প্রায় ত্রিশ লাখ মানুষ রাজধানীতে প্রবেশ করেন—এই যাতায়াতের চাপ সামাল দিতে উদ্যোগগুলো নেয়া হয়েছে।
ঈদযাত্রার সময় বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে: ২৫, ২৬ ও ২৭ মে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে কামারপাড়া হয়ে ধউর ব্রিজ পর্যন্ত সড়ককে একমুখী করা হবে। ওই তিন দিনে এই রাস্তায় কেবল ঢাকা থেকে বের হওয়া যানবাহন চলাচল করতে পারবে; ঢাকায় প্রবেশকারী যানবাহনকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
ডিএমপি আরও অনুরোধ করেছে যে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নির্দিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এ সময় পরিহার করা হবে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বনানী থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, যাত্রাবাড়ী থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, শ্যামলী থেকে গাবতলী পর্যন্ত মিরপুর রোড, ফুলবাড়িয়া থেকে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত ঢাকা-কেরানীগঞ্জ সড়ক এবং আব্দুল্লাহপুর থেকে ধউর ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক।
ডিএমপি জানিয়েছে, জনসচেতনতা ও নির্দেশনা মেনে চললে ঈদব্যস্ত সময়গুলোতে যানজট ও অপ্রীতিকর ঘটনা কমে যাবে—তাই নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।