বাংলাদেশি পর্বতারোহী নুরুন্নাহার নিম্নি তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করলেন। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গৌরবময় মুহূর্ত। তিনি বুধবার ভোর ৫টা ২৪ মিনিটে এভারেস্টের শীর্ষে পৌঁছে দেশের পতাকা তুলে ধরেছেন। এই সুখবর আজ বাংলামাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নুরুন্নাহার নিম্নি পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের চূড়ায় পৌঁছানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের নারী পর্বতারোহীদের জন্য এক নতুন ইতিহাস রচনা করলেন। আজ ভোরে তিনি এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান, যার তথ্য অ্যাঙ তেম্বা শেরপা ও তার অভিযানের স্পনসর 8K Expedition এর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তার অভিযান শুরুর কথা স্মরণ করিয়ে দিতে গেলে, জানানো হয় যে, তিনি ২৫ মে ক্যাম্প-২ থেকে যাত্রা শুরু করেন এবং রাতে ক্যাম্প-৩ এ অবস্থান করেছিলেন। এরপর ২৬ মে ক্যাম্প-৩ থেকে রওনা হয়ে দুপুর আড়াইটায় ক্যাম্প-৪ে পৌঁছান। পর্যায়ক্রমে সব অবস্থা মোকাবেলা করে, তিনি দীর্ঘ অভিযানের শেষে আজ দেশের গৌরবময় পতাকা উঁচু করেছিলেন। তার সাথে ছিলেন দাওয়া নুপু শেরপা ও লাকপা থিনদুক শেরপা।
প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্টে পৌঁছান নিশাত মজুমদার ২০১২ সালের ১৯ মে এবং ২০১২ সালে ওয়াসফিয়া নাজরীন এই শিখর জয় করেন। এরপর দীর্ঘ ১৪ বছর পর, বাংলাদেশি নারী হিসেবে আবারো এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটলো নুরুন্নাহার নিম্নির মাধ্যমে।
নিম্নি ঢাকা থেকে প্রথমে নেপাল যান, পরে কাঠমান্ডু থেকে লুকলা হয়ে এভারেস্টের বেসক্যাম্পে পৌঁছান। ধাপে ধাপে বেশি উচ্চতা মোকাবেলা করে তিনি চূড়ায় উঠেন। এই সময়ে আবহাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এবং তার অভিযান সফল করার জন্য ১৭ মে তার অভিযান শুরু হয়। ২৩ মে ক্যাম্প-৪ এ পৌঁছে, কিছুদিন আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময় পিছিয়ে যায়। অবশেষে ২৫ মে আবার যাত্রা শুরু করে, স্বাভাবিক আবহাওয়ার উপযোগী মুহূর্তে ২৬ মে ক্যাম্প-৪ এ অবস্থান করেন তিনি। এরপর আজ ভোরে সফলভাবে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান।
বর্তমানে তিনি পূবালী ব্যাংক পিএলসির গ্লোবাল ব্যাংকিং বিভাগের প্রিন্সিপাল অফিসার। এই অভিযানের জন্য তার স্পন্সর ছিল ব্যাংকটি। তার জন্ম রংপুরে এবং পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে।
প্রথম সফলতাটি ১৯৫৩ সালে ঘটেছিল, যখন নেপালের শেরপা তেনজিং নোরগেকর সাথে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের পর্বতারোহী এডমান্ড হিলারি পৃথিবীর উচ্চতম চূড়ায় ওঠেন। বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্টজয়ী ছিলেন মুসা ইব্রাহীম, যিনি ২০১০ সালে এই স্বীকৃতি পান। এরপর ২০১১ ও ২০১২ সালে এম এ মুহিতও এভারেস্টে উঠেছেন। ২০১২ সালে নিশাত মজুমদার ও ওয়াসফিয়া নাজরীন এই গৌরব অর্জন করেন। তবে, ২০১৩ সালের ২০ মে শিখর থেকে নামার সময় পঞ্চম বাংলাদেশি সজল খালেদ মারা যান।
এখনো বাংলাদেশ থেকে এভারেস্টে পৌঁছানো গর্বের বিষয়। বাবর আলী ২০২৪ সালে এই স্বাদ গ্রহণ করেন, এবং ২০২৫ সালে ইকরামুল হাসান শাকিল কক্সবাজার থেকে হেঁটে এভারেস্টের চূড়া স্পর্শ করেন।

