মুসলমানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা আজ বৃহস্পতিবার সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে। যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায় ঈদুল আযহা পালন করবে। মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায়, ঈদের জামাত শেষে মুসল্লিরা যথাসম্ভব ত্যাগের symbol হিসেবে পশু কোরবানি করবেন।
নামাজের পর অনেক মুসল্লি কবরস্থানে যান, চির বিদায় নেওয়া স্বজনদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মনোযোগ সহকারে তাঁদের রুহের মর্যাদা কামনা করবেন এবং আল্লাহর দরবারে অশ্রুসজল চোখে দোয়া করবেন।
বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশাপাশি আমাদের দেশেও এই উৎসবের খুশি ছড়িয়েছে। রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নগরপ্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুও এই শুভকামনা ব্যক্ত করেছেন।
অন্যদিকে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ পৃথকভাবে সবাইকে এই পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
পবিত্র এই ঈদুল আযহার উপলক্ষে দেশের সব শহর-গঞ্জে দীর্ঘ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই ছুটি চলবে ৩১ মে পর্যন্ত, এরপর ১ জুন রোববার বিভিন্ন সরকারি ও আধা-সরকারি দফতর আবার কর্মস্থলে ফিরবে। পাশাপাশি, সংবাদ মাধ্যমগুলোতেও ছুটি চলবে এই সময়, তবে আগামী রোববার থেকে আবার সাধারণ কার্যক্রম শুরু হবে। এই ছুটির ঘোষণা দিয়েছে নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)।
প্রসঙ্গত, প্রায় চার হাজার বছর আগে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ) কে কোরবানি করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে পরম করুণাময় ঈশ্বরের কুদরতে, ইসমাইল (আঃ) এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়। এই ত্যাগের মহিমা স্মরণ করিয়ে দিয়ে, মুসলমানেরা জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের জন্য পশু কোরবানি করে থাকে।
আর্থিকভাবে সক্ষম মুসলমানদের জন্য আল্লাহ কোরবানি ফরজ করেছেন। এ কারণেই, ধর্মীয় দৃষ্টি থেকে এই দিন কোরবানি করা শ্রেয়। এই ত্যাগ ও আনুগত্যের আদর্শ অবলম্বন করে, সারাদেশের মুসলমানরা রোববার সকালে মসজিদে যেতেন এবং ঈদের দু’রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন। নামাজের খুতবে কোরবানি ও ত্যাগের তাৎপর্য তুলে ধরা হবে।
জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদ উদযাপন হলেও পরের দু’দিনেও পশু কোরবানি করার বিধান আছে। দানশীল মুসলমানরা যেন এই দিন দান-খয়রাতের মাধ্যমে অন্যদের মাঝে আনন্দ ভাগ করে দেয়, তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোরবানির পশুর চামড়া থেকে প্রাপ্ত অর্থ ও অর্থের একটি অংশ দরিদ্র ও দুস্তর মধ্যে বন্টন করা হবে।
বিশেষ করে, এই ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা ও শুভকামনা ব্যক্ত করেছেন।
খুলনায়, পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খুলনা টাউন জামে মসজিদে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে—প্রথম ও প্রধান জামাত সকাল ৭টায়, দ্বিতীয় ৮টায় এবং তৃতীয় ৯টায়। পাশাপাশি, খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদে সকাল ৭:৩০ ও ৮:৩০ মিনিটে আরও দুইটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
খুলনা বায়তূলনূর জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে দুটো জামাত হবে, যথাক্রমে সকাল সাড়ে ৭টায় ও সাড়ে ৮টায়। এসব ধর্মীয় কার্যক্রমে স্থানীয় ইমাম ও খতিবরা নেতৃত্ব দেবেন। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ও অন্যান্য মসজিদে ও ঈদগাহে বিভিন্ন পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে জামাতের সময়সূচি নির্ধারিত হবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বৃহস্পতিবার ভোর ৭টায় ঈদুল আজহা চর্তুদশা নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হবে, এরপর মুসল্লিরা মোনাজাতের মাধ্যমে সফলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করবেন। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও একই সময়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া, ঈদের দিন সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি ভবনগুলোতে যথাযথভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও নামানো হবে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং চত্বরগুলোকে সাজানো হবে ব্যানার, পতাকা ও শুভেচ্ছা বার্তার মাধ্যমে। বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে, কারাগারে, শিশুসদন, প্রতিবন্ধী ও আশ্রয় কেন্দ্রসমূহে বিশেষ খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করবে, যাতে কোনও অবাঞ্ছিত ঘটনা না ঘটে। আতশবাজি, পটকা, উচ্চ শব্দে মাইক, স্টল ও বড়শো বাজানো, নদীতে মালবাহী জাহাজ ও স্পীডবোট চলাচলের ওপর নজরদারি থাকবে। এছাড়া, পশু জবাই, পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও বিক্রয়, পরিবেশ রক্ষা করার জন্য যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত, পশুর চামড়ারা ন্যায্য মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে সতর্ক থাকা ও গুজব প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে বলা হয়েছে।
ঈদ-উল-আযহার এই বৃদ্ধিমন্ডিত উৎসবের প্রসারে বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্র বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে ও স্থানীয় সংবাদপত্র বিশেষ সংখ্যায় বিষয়গুলো প্রকাশ করবে, যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সবার কাছে পৌঁছে যায়।
