বলিউডের আলোচ্য প্রজেক্ট ‘ডন থ্রি’-কে ঘিরে তৈরি হলো বড় ধরণের বিবাদ; সেই সংকট মেটাতে এবার মধ্যস্থতায় নামলেন সালমান খান। রণবীর সিংয়ের হঠাৎ প্রজেক্টত্যাগ ও প্রযোজক ফারহান আখতারের সঙ্গে তার তীব্র দ্বন্দ্যের পর সালমান দুই পক্ষের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মিটিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছেন।
বলিউড হাঙ্গামা সূত্রে জানা গেছে, সালমান কোন প্রকাশ্য মিডিয়া সার্কাস না করে ব্যক্তিগতভাবে ফারহান ও রণবীর—দুজনের সঙ্গেই কথা বলছেন। তিনি দুজনকেই বোঝাচ্ছেন যে সৃজনশীল মতপার্থক্য ইন্ডাস্ট্রিতে সাধারণ এবং বিষয়টি বন্ধুত্ব ও পেশাদারির দিকে ধরে সুসমাধানে নিয়ে যাওয়াই উচিত। সালমানের কথানুযায়ী তিনি ফারহানকে পরিস্থিতির স্থিতিশীল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন এবং রণবীরের বক্তব্য বুঝতে দীর্ঘক্ষণ আলাপ করেছেন।
এর আগেও এই দ্বন্দ্য মেটাতে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে আমির খান নিজের বাংলোয় একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠকের আয়োজন করেন, যেখানে ছিলেন করণ জোহর, সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা, একতা কাপুর, এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের ফারহান আখতার ও রিতেশ সিধওয়ানি, জোয়া আখতার এবং জি এন্টারটেইনমেন্টের পুনিত গোয়েঙ্কা। সেই বৈঠকের পর সবাই আশাবাদী ছিলেন, কিন্তু সমস্যার সমাধান তখনও সম্ভব হয়নি। প্রডিউসারস গিল্ড অব ইন্ডিয়া একাধিক উদ্যোগ নিয়েও সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (FWICE) রণবীর সিংকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের বক্তব্য—ডন থ্রি-সংক্রান্ত আলোচনার জন্য বহুবার নোটিশ ও রিমাইন্ডার পাঠানো সত্ত্বেও রণবীর বসে উপস্থিত হয়ে কোনো আলোচনা করতে রাজি হননি, ফলে সংগঠনটি তাকে বিবেচিত সিদ্ধান্তে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় উদ্যত হয়।
ডন থ্রি প্রকল্পটির পটভূমিও সংক্ষিপ্তভাবে স্মরণীয়। ২০২৩ সালে এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট রণবীর সিংকে নতুন ‘ডন’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয় একটি টিজার প্রকাশের মাধ্যমে। রণবীরের সম্মতিতেই সব প্রস্তুতি চলছিল এবং তাঁর পরবর্তী কাজ শেষ হতেই শুটিং শুরু করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শুটিং শুরু হওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহ আগে হঠাৎ রণবীর প্রজেক্ট থেকে সরে যান। এতে প্রযোজনা সংস্থার প্রায় ৪৫ কোটি রুপির আর্থিক ক্ষতি হয়। ক্ষতিপূরণ দাবিতে ফারহান আখতার রণবীরের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন, যা তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বে ফাটল ধরায়।
এক্ষেত্রে সালমান খানের এই মধ্যস্থতার প্রয়াসকে দুই পক্ষই গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে। FWICE-এর নিষেধাজ্ঞার পর বড় ধরনের সামাজিক বিতর্ক এড়াতে এখন তারা একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজছেন। সালমান যে ভাবে অভিভাবকসুলভ পরামর্শ ও দুটি পক্ষকে আলাদা করে বোঝার চেষ্টা করছেন, তাতে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী যে আলোচনার মাধ্যমে ইস্যুটির কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরোতে পারে।
এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি; কিন্তু বলিউডের বহু বড় নামের রাখঢাক আবারো কথোপকথনের টেবিলে ফিরেছে। যদি এই মধ্যস্থতা সফল হয়, তাহলে ‘ডন থ্রি’-র ভবিষ্যত ও শিল্পী-প্রযোজকদের সম্পর্ক দুইই সহমত ও পেশাদারভাবে সামলানো সম্ভব হবে—এটাই প্রত্যাশা।
