পশ্চিমবঙ্গে হোল্ডিং সেন্টার চালু হওয়ার প্রথম সাত দিনে রাজ্য প্রশাসন মোট প্রায় ৪০০ জন কথিত ‘বাংলাদেশি’ আটক করেছে। তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে—এই তথ্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।
সবচেয়ে বেশি আটকানো হয়েছে বসিরহাট পুলিশ জেলায়। প্রশাসন জানিয়েছে, বসিরহাটে মোট ৩৩৫ জনকে আটক রাখা হয়েছে এবং তাদের তেঁতুলঘাটি, পাথরশাঁতি, চরঘাট ও সুভাষ নগরের বন্যা ত্রাণকেন্দ্রগুলোতে রাখা হয়েছে।
বসিরহাট ছাড়াও মালদা, মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের আটক করার খবর মিলেছে। বারুইপুর, বারাসাত, কোচবিহার, জঙ্গিপুর, কৃষ্ণনগর ও বনগাঁ পুলিশ জেলাগুলোতেও আটক ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে।
হোল্ডিং সেন্টারগুলোর নিরাপত্তা এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলিকে বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে যাতে আটক ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত এবং নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়। সূত্র বলছে, সেন্টারগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এসব অপরাধ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কেরালায় কর্মরত চার শ্রমিকও রয়েছেন। তারা ২৬ মে হাকিমপুর সীমান্ত ফাঁড়িতে পৌঁছানোর পর উত্তর ২৪ পরগনার একটি আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
ফোনে কথা বলার সময় ওই চার যুবকের একজন মতলেব হোসেন বলেছেন, ‘গতকাল আমাদের বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হয়েছে। তারা আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে। বিএসএফ কর্মকর্তারা আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন—কোভাবে ভারতে প্রবেশ করেছি, কোথায় কাজ করেছি এবং কোথায় থেকেছি, এসব ব্যাপারে সব তথ্য নিয়েছে। আমরা সবকিছু জানিয়েছি।’
প্রশাসন বলছে, আটককৃতদের শনাক্তকরণ ও ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান থাকবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।