পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন, যা নিজেই এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ। সোমবার (১ জুন) সকালে ঈদুল আজহার ছুটি শেষে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। পত্রটিতে তিনি জানান, ‘আমি দীপেন দেওয়ান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছি। এর ফলে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। দেশের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বজায় রাখতে আমি আমার বর্তমান পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়া বিশেষ প্রয়োজন মনে করি। তাই আমি বিনীতভাবে আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য অনুরোধ করছি।’ তার এই পদত্যাগে জনগণ ও রাজনৈতিক মহলে নানা বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে। দীর্ঘ ১৯ বছর সরকারি চাকরি শেষে ২০০৫ সালে বিএনপি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন দীপেন দেওয়ান। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীপেন দেওয়ানের পারিবারিক গল্পও সাধারণ মানুষের নজরে এসেছে। তাঁর বাবা বিএনপির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নিজেও ছাত্রজীবন থেকে সক্রিয় থাকলেও পরিবারের ইচ্ছে অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি বিসিএস জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দেন। তিনি আজীবন সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার্ড গ্রাজুয়েট, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির রাঙামাটি ইউনিট, এফপিএবি রাঙামাটি, রাঙামাটি আইনী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি। ২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের সময়, খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে, তিনি দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে জুডিশিয়াল সার্ভিসের থেকে অব্যাহতি নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে সিনিয়র যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রাঙামাটিতে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যখন কোনও অভিভাবক পাচ্ছিলেন না, তখন দীপেন দেওয়ান সংগঠনের নেতৃত্ব নিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেন। এর ফলে সংসদের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি নেতৃত্ব দেন এবং রাঙামাটি জেলা বিএনপির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে দলটি গুছিয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচি চালিয়ে যায়, যার মধ্যে রয়েছে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিসহ নানা কর্মসূচি। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীপেন দেওয়ানের পরিবারের ইতিহাসও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তার বাবা সুবিমল দেওয়ান, যিনি বাংলাদেশের জিওপি নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি রাঙামাটিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ও পরে জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। এই পরিবার ও সংগঠনের সঙ্গে দীপেন দেওয়ানের সংসার জীবনে পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এমনভাবে বহু বছর ধরে তিনি পার্বত্য এলাকার মানুষ ও দলের জন্য কাজ করে চলেছেন, যার মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও পারিবারিক কার্যক্রমের এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে।
