সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধির অভাবে কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে রাজধানীর গুলশান, বনানী ও হাতিরঝিল লেক পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকার লেকগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াসা। পাশাপাশি দাসেরকান্দি এলাকায় স্যুয়ারেজ লাইন বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই একনেকের অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গু শ্যম্বকের উৎপত্তিস্থল শনাক্তকরণ ও এর বিস্তার রোধে কাজ চলছে। হাতিরঝিল লেকের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ অচিরেই সম্পন্ন হবে, তবে কিছু সময় লাগবে যেহেতু সেখানে স্যুয়ারেজ লাইন রয়েছে। মেয়রদের সয়লেড সমস্যার প্রতিরোধে এখন থেকে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন জরুরি, যাতে ময়লা সরাসরি পরিস্থিতির কাছে না আসে।
মীর শাহে আলম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি নিজে ঐতিহ্যবাহী ঢাকার বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেছেন। কোনো প্রটোকল ছাড়াই তিনি গাড়ি চালিয়ে চার ঘণ্টা ধরে শহরের অবস্থা দেখে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যেখানে গাফিলতি দেখা যায়, সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও, দায়িত্ব অবহেলায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গত ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ তদারকি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা শেষ হয়েছে। মন্ত্রণালয় এখন ২০টি টিমের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। সকলের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সতকর্তার স্বার্থে সচেতন থাকতে হবে।
প্রথমত, তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ঢাকার দুই সিটির জনপ্রতিনিধি না থাকায় দেখভালের অভাবে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে বর্তমানে প্রশাসকরা রুটিন ওয়ার্ক সম্পাদন করছে। কিছুটা কাজের গতি বেড়েছে বলে জানান তিনি।
তাছাড়া, বাজেটের বরাদ্দ আসার পর জুলাই-আগস্টের মধ্যে নির্বাচন কবে হবে তা নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অপর দিকে রাজউক চেয়ারম্যান জানান, হাতিরঝিলের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু হবে। স্যুয়ারেজ লাইন দাসেরকান্দিতে নেওয়া গেলে ময়লার পরিমাণ কমবে। এ প্রকল্প দ্রুতই একনেকের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে এসটিপি বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ রকম সমস্যা না হয়।

