বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দুর্নীতি এবং অবহেলার কারণে দেশের স্বাস্থ্যখাতে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তিনি বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে দুর্নীতির কারণে স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে একের পর এক পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবায়ন হয়নি, ফলে দেশের স্বাস্থ্যখাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে বুধবার (৩ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, দেশের পাঁচটি বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে these হাসপাতালগুলো উদ্বোধন করা হবে। এই পাঁচটি হাসপাতাল হলো খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লায়। এরই মধ্যে এসব হাসপাতালের নির্মাণের জন্য ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রতি হাসপাতালে প্রয়োজন এক হাজার ৪৭৫ জন শ্রমিকের। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি জনবল নিয়োগের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহর রহমতে, ভবিষ্যতে কয়েক মাসের মধ্যেই এই পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন।
তিনি উল্লেখ করেন, এসব হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে, সেন্ট্রালি এয়ার কন্ডিশন ব্যবস্থাও থাকবে। প্রত্যেক হাসপাতালের জন্য একটি করে আইসিইউ ব্যবস্থাপনা করা হবে, পাশাপাশি ভবিষ্যতে রোগীর চাপ বাড়লে বেড বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। আগামী চার মাসের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা চলছে, তবে যদি বিলম্ব হয়, তখন ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন করবেন বলে আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসহনীয় পরিবেশের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এই হাসপাতালের পরিবেশ উন্নত করতে প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে। এর জন্য ইতোমধ্যে প্রকল্প তৈরি হয়েছে, এবং অচিরেই টেন্ডার করে কাজ শুরু করা হবে। জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত হয়ে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।
এছাড়া ঢাকা মিডফোর্ড হাসপাতালের কিছু ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যেগুলো অচিরেই ভেঙে ফেলা হবে। ভবনগুলো রক্ষায় সাবলেটিং ও অবকাঠামো সংস্কার করা হবে, যাতে সেখানে নতুন হাসপাতাল নির্মাণ সম্ভব হয়।
অন্যদিকে, চীন-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে, মূলত চীনের অর্থায়নে, পাঁচটি আধুনিক, মহিলাদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে কাজ শুরু হচ্ছে। এই হাসপাতালগুলো হবে ১০০০ শয্যাবিশিষ্ট এবং বাংলাদেশের পাঁচ বড় শহর বা শহরসংলগ্ন স্থানে নির্মিত হবে। এর ডিজাইন হবে অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও শৈল্পিক। এ সব হাসপাতালের নির্মাণ কাজ এই অর্থবছরের মধ্যেই শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে, ১৫ আগস্টের মধ্যে নতুন ভবনের উদ্বোধন হবে বলে আভাস দিয়েছেন তিনি। এর জন্য সব প্রস্তুতি, যন্ত্রপাতি ও জনবল আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়।

