খেলাপি ঋণের পরিমান আবার বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন মাসে ব্যাংক খাতের ব্যাঙ্কিং সক্ষম ঋণের মধ্যে খেলাপি অংশ ৩১,৪৮৮ কোটি টাকা বেড়ে মার্চে দাঁড়িয়েছে ৫,৮৮,৭০৪ কোটি টাকায়। ডিসেম্বরের শেষেই খেলাপি ঋণ ছিল ৫,৫৭,২১৬ কোটি টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের হার গত তিন মাসে ১.৬৬ শতাংশপয়েন্ট বেড়ে ৩২.২৬ শতাংশে উঠেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে খেলাপি হার ছিল ৩০.৬ শতাংশ।
একই সময়ে দেশে মোট বিতরণকৃত ঋণও বেড়েছে—৩১,৪৮৭ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ঋণের সামগ্রিক অবস্থান এখন ১৮,২৪,৬৬৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, যদিও মার্চে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ইতিহাসের ন্যায় নিম্নতম, তবুও সুদের হার বৃদ্ধির কারণে মোট ঋণের পরিমাণ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘসময় ধরে নীতি সহায়তার মাধ্যমে বড় অংকের খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন করছে। এ ছাড়াও নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচনের আগে অনেক প্রার্থী তাদের খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করে নিয়েছেন, যা সাময়িকভাবে খেলাপি তালিকা পরিবর্তন করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘খেলাপি ঋণ আদায় প্রত্যাশিত গতিতে হয়নি। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের উপর সুদ যোগ হলে টাকার পরিমাণ বেড়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘নীতি সহায়তার আওতায় পূনঃতফসিল করা ঋণগুলিকে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়েছে; তাই এখন সেগুলো আদায় হচ্ছে না। দুই বছর পেরোলেই আদায়ের গতি বাড়বে। এছাড়া নির্বাচনের আগে যারা ঋণ রিশিডিউল করেছে তাদের মধ্যে অনেকেই মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট করেছেন।’
চিত্রটিকে বিস্তৃতভাবে দেখলে দেখা যায়, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ ছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে—সেই সময়ে মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ খেলাপি হয়ে গিয়ে টাকার অঙ্কে সেটি ছয় লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি দাঁড়ায়। পরে বিশেষ নীতি সহায়তার মাধ্যমে কয়েকটি বড় অংকের ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন করে ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ কমিয়ে ৫,৫৭,২১৬ কোটি টাকায় আনা হয়েছিল। তবে এরপর তিন মাসের মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আবার বেড়ে গিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুদের দাঁড়্য, আদায়ের ধীরগতি ও পুনঃতফসিল নীতির মেয়াদ—এসব মিলিয়ে নিকট ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা হবে কি না, তা নজরদারি ও আরও কার্যকর পুনরদ্ধারের উপর নির্ভর করবে।