পদত্যাগের দুই দিন পর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বুধবার রাতে একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে পার্বত্যবাসীকে শান্ত থাকতে অনুরোধ করেছেন এবং নিজের রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
অসুস্থতার কথা বলে গত সোমবার (১ জুন) তিনি বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পর রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সমর্থকদের বিভিন্ন মিছিল, মিটিং ও প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখা গেছে।
মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, রাজনৈতিক পরামর্শকরা তাঁকে কিছুদিন চুপ থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা নানা জল্পনা তৈরি করায় তাতে উদ্বেগও বাড়ে। অবশেষে বুধবার রাতেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি কথা বললেন।
ফেসবুক পোস্টে দীপেন দেওয়ান পার্বত্যের সবস্তরের মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “আপনারা শান্ত থাকুন, ধৈর্য ধারণ করুন এবং আইন-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন। কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখুন।” তিনি আরও 강조 করেছেন যে পার্বত্য চট্টগ্রাম সবার এবং অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্বও সবার।
পোস্টে তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও ত্যাগ-নিষ্ঠার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রেরণা ছিলেন বাবা — শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা সুবিমল দেওয়ান। দেশের রাজনীতিতে তিনি বিএনপি-র একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং দলের প্রতি আনুগত্য অটুট থাকবে বলে জানিয়েছেন। এছাড়া পোস্টে তিনি তারেক রহমানকে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর নেতৃত্বে আস্থা জানান।
দীপেন দেওয়ানের ফেসবুক বার্তার পর বহুবার তাঁর মোবাইল নেবার চেষ্টা করা হয়, তবে ফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
পটভূমি: দীপেন দেওয়ান ১৯৬৩ সালের ৮ জুন রাঙামাটির রাঙাপানি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সুবিমল দেওয়ান 曾 ছিলেন জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় উপজাতীয় বিষয়ক উপদেষ্টা। বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে পার্বত্য রাঙামাটি আসন (আসন নং- ২৯৯) থেকে ২,০১,৮৪৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
সংক্ষিপ্তভাবে, এই পোস্টে দীপেন দেওয়ান শান্তি-সম্প্রীতি ও সংহতির বার্তা দেন এবং রাজনৈতিক আনুগত্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ইঙ্গিত দিয়েছেন।