পারস্য উপসাগরের গোরুক ও কেশম দ্বীপে ইরানের উপকূলীয় রাডার স্টেশনে মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন সংঘর্ষযোগ্য ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
ইরানভিত্তিক তাসনিম নিউজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড সেন্টকম — উভয়েই পৃথকভাবে এই ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাসনিম নিউজ আইআরজিসির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শনিবার ভোরে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের শত্রু ঘাঁটিসহ গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে অ্যারোস্পেস ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
সেন্টকম এক্স প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করা বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যা কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর (ফিফথ ফ্লিট) সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করছিল। এসব ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্যবস্তুর কাছে পৌঁছার আগেই ধ্বংস করা হয়েছে, বলেছে সেন্টকম।
ঘটনার সময়রেখা অনুযায়ী, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে হরমুজ বন্দরের দিকে এগিয়ে আসছিল চারটি ইরানি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক’ ড্রোনকে ভূপাতিত করার পর সম্ভাব্য আরও হামলা রুখতে গোরুক ও কেশম দ্বীপের রাডার স্টেশনগুলোতে বিমান হামলা চালায় সেন্টকম। সেসব হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আইআরজিসি প্রতিশোধ হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, জানিয়েছে তাসনিম নিউজ।
এর আগেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। তাসনিম ও সেন্টকমের বিবৃতিগুলি এই সাম্প্রতিক পাল্লা-বদলের ঘটনা আলোকপাত করলেও, নির্ধারিতভাবে কার কী ক্ষতি হয়েছে তা সম্পর্কেই দুইপক্ষের বক্তব্য আলাদা।
পটভূমি: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিবাদের মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালু করে। টানা সংঘাতের পরে ৮ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, তবে কাগজে-কলমে থাকা ওই যুদ্ধবিরতিই বাস্তবে বেশ ভঙ্গুর—এবং গত ২৮ মে থেকে উভয়পক্ষ প্রায় নিয়মিতভাবে একে অপরকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
এই ঘটনার বিস্তারিত ও ঘটনার সূত্র সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেছে সংবাদসংস্থা এএফপি ও আলজাজিরার রিপোর্ট থেকে।