বিএনপির সংসদীয় দলের সত্রে গত এক মাসে সাতটি মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা মূল্যায়ন ও কর্মমুখী শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু আলোচনা করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে দলের সভাপতির — তারেক রহমানের — সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় several সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করলে দলীয় সভাপতি বিষয়টিতে পূর্ণ সমর্থন জানান। এছাড়া পল্লবীতে ঘটে যাওয়া শিশুর ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার আশ্বাসও সভায় দেওয়া হয়।
সভা শেষে সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, ওই সাতটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা তাদের বিভাগের গতিশীলতা, চলমান সমস্যা এবং তা সমাধানের জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেছেন।
শিক্ষামন্ত্রীর কথা তুলে ধরে চিফ হুইপ জানান, কারিকুলামে কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দলের বক্তব্য — যে শিক্ষা মানুষকে কাজে দক্ষ না করে, বা বিদেশে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম না করে — তা কার্যকরী নয়। পাশাপাশি একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফি ২–৩ হাজার টাকা কমিয়ে আনা হয়েছে এবং যাদের অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাত নিয়ে আলোচনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে তৎপর হতে বলা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এক হাজার কিলোমিটারের নতুন রাস্তায় টেন্ডার চালিয়েছে—এবং কাজ কম খরচে ও দুর্নীতিমুক্তভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়।
সভায় যুবক প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকায় এবং ঢাকার বাইরে বিকেএসপির শাখা সম্প্রসারণ, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের দ্রুত কাজ সম্পন্ন এবং নারী ও শিশু উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর টার্মিনাল উন্নয়ন এবং তিস্তা ব্যারেজ সম্পর্কিত অগ্রগতির বিস্তারিত বিবরণ উপস্থাপন করেছে। বিদ্যুৎখাতে বলা হয়েছে, বিপুলসংখ্যক মানুষকে নতুনভাবে বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে এবং মোট গ্রাহকের প্রায় ৬৬ শতাংশের বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধি হয়নি বলে সভায় জানানো হয়।
দ্রব্যমূল্য ও ডলার সংকটের প্রসঙ্গে চিফ হুইপ উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় ডলারের মূল্য ৮৬ টাকা থেকে ১১৯–১২০ টাকায় পৌঁছিয়েছে; প্রায় ৩৫–৪০ শতাংশ ডলারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবেই নিত্যপণ্যের মূল্যচলন বেড়েছে। বর্তমান সরকার এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে এবং মানুষের দুর্দশা লাঘবের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এ ছাড়া সভায় জাতীয় হাসপাতাল নির্মাণ, মানসম্মত স্কুল খাবার নিশ্চিতকরণ এবং অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে। সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং জনসেবা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।