দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ হয়েছে। রোববার (৭ জুন) এই জঙ্গি মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে অভিযুক্ত দুই আসামি, সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার, এর জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তাদের অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। বিচারক রায়ের সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যও করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন, এই মামলার অপরাধীরা সংশোধনযোগ্য নয়। যদি তাদের যথাযথ শাস্তি না দেওয়া হয়, তাহলে আদালত ব্যর্থ হয়ে যাবে বলে তিনি আগেভাগেই সতর্ক করে দেন।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে তিনি রায় পড়ে শোনান।
सुপ্রভাতে, সকাল ১০:৪৫ মিনিটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে এজলাসে আনা হয়। পরে সকাল ১০:৫৫ মিনিটে স্বপ্না আক্তারকে হাজির করা হয়। স্বপ্নাকে এজলাসে প্রবেশ করানোর সময় সোহেল প্রথমে মুখ নিচু করেন, পরে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকেন। এরপর দুইজনকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়।
রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, সোহेल রানা শিশুর প্রাণনাশের আগেই তাকে ধর্ষণ করেছেন, এবং এর প্রমাণ আদালতের কাছে সুস্পষ্ট। জবানবন্দিতে তিনি রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দোষ স্বীকার করেছেন। স্ত্রী স্বপ্না খাতুন তার সহযোগিতা করেছেন পালানোর মতো কাজে। এছাড়াও, আসামিদের দোষ স্বীকার করে নেওয়ার পর তারা তার প্রত্যাহার করেননি। দুজনেই একই গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন।
আদালত বলেছে, যদি অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি না দেওয়া হয়, তাহলে বিচারব্যবস্থা ব্যর্থ হবে। তাদের অপরাধ সংশোধনযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আদালত পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন, ভিকটিম রামিসার দেহে চিকিৎসকদের অটোপসি রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। এই রায়ের মাধ্যমে আমরা সন্তুষ্ট, কারণ ট্রাইব্যুনাল দ্রুততম সময়ে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
আইনজীবী আরো বলেন, আদালত শুরুতেই বলেছিলেন, শিশুদের অধিকার এবং তাদের সুরক্ষা সরকারটির মূল লক্ষ্য। অপরাধের জন্য দয়া দেখানো যাবে না, বরং দৃঢ় ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সেই অনুযায়ী, আদালত এই দুই অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।
এদিকে, সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা আপাতত এই রায়ের ওপর সন্তুষ্ট। উচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল থাকবে বলে আশা করছি। রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে, যা আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক।
রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমরা প্রত্যাশিত রায় পেয়েছি। এই রায়ে আমাদের আশা ও আকাঙ্ক্ষা সত্যিই পূরণ হয়েছে। আমি খুশি এবং প্রধানমন্ত্রীর সময় বিবেচনায় দ্রুত রায় প্রদান করার জন্য কৃতজ্ঞ।
প্রায় এক মাস আগে, ১৯ মে, রাজধানীর পল্লবীতে সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর ফ্ল্যাট থেকে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত্যুর দিনই বাবার পক্ষ থেকে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে দুজনকেই দ্রুত গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীদিন, ২০ মে, সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্তের ফলস্বরূপ, ২৪ মে, অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। তদ্ব্যতীত, মামলার বিচার কার্যক্রমও দ্রুত শুরু হয় এবং ট্রাইব্যুনাল এই অপরাধে বিচারের জন্য প্রস্তুতি নেয়।

