পশ্চিম Bengal এবং ঠাকুরগাঁও সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) রোববার (৭ জুন) মধ্যরাতে মোট ২১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে সফিয়ভাবে সরিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের শিকার হয়ে ১১ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে চার দিন আগে বাংলাদেশের শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটে ৫ জুন রাত সাড়ে ৩টার দিকে, যখন হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও বিওপির সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এসে সংলগ্ন অঞ্চলে বিএসএফের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় বিজিবি টহলদল দ্রুত স্থানীয়দের শনাক্ত করে এবং তাদের প্রবেশে বাধা দেয়। তবে ওই ১১ জন পুশইনের শিকার হয়ে তিন দিন ধরে সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করছিল।
বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, শেষ পর্যন্ত মধ্যরাতে বিএসএফ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তেও বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। সেখানে ১০ জন নারী, পুরুষ এবং শিশুকে প্রায় ৭০ ঘণ্টা পর আবার ভারতের সীমান্তে নিয়ে যায় বিএসএফের ৯৩ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।
নীলফামারীর ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল সিরাজুল ইসলাম জানান, তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিএসএফ তাদের অনুরোধে ওই ১০ জনকে ফিরিয়ে নিতে চায়। পরে বিজিবি সম্মত হয় এবং দ্রুত সেই ১০ জনকে গাড়িতে করে পাশের ক্যাম্পে স্থানান্তর করে। বিজিবি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা পুশইনের কোনওভাবেই অনুমোদন দেয় না।
স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, তিনি রোববার রাতে সীমান্তে ছিলেন, তখনই দেখেন বিএসএফ লাইট বন্ধ করে ওই ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করতে চাইছিল। পরে আবার লাইট চালু করে তাদের ফিরিয়ে আনা হয়। কিছু সময়ের জন্য নাটকীয়তা চলে, এরপর আবারও তারা ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
এর আগে ৫ জুন ভোরে বিএসএফের সদস্যরা সীমান্ত দিয়ে ১০ জনের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়, তবে বিজিবি বাধা দেয়। এ পরিস্থিতিতে বিআরসি, কোম্পানি ও ব্যাটালিয়নের পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
গত রোববার দুপুর ১২টার দিকে আবারও ভারতের শূন্যরেখা থেকে তাদেরকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার জন্য চেষ্টা চালানো হয়। এতে সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিজিবি ও বিএসএফের কমান্ডাররা দুপক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে সীমান্তে সংযত অবস্থানে এসে দুদল সদস্য বাড়িয়ে দেন সতর্কতা। মাইকিং করে জনগণকে সাবধান করে দেওয়া হয় এবং পুশইনের চেষ্টাকে রুখতে স্থানীয়দের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এই পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং সীমান্তে আবার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে।
