আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন, জানিয়েছে আফগান সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় সূত্রগুলোকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এএফপি।
অবগত সূত্রে জানা গেছে, হামলা কুনার, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে বেসামরিক বসতবাড়ি লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেন, ‘মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তান আবারও আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে কুনার, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশের বেসামরিক বসতবাড়িতে হামলা চালিয়েছে।’ তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে শিশু, একজন নারী ও এক বৃদ্ধ আছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোতে হামলার ক্ষতবিক্ষত এলাকায় আরও বিস্তারিত ছবি পাওয়া গেছে। খোস্ত প্রদেশের স্পেরা জেলায় এক বসতবাড়িতে হামলা করে নয়জন নিহত ও দশজন আহত হয়েছেন বলে ওই প্রদেশের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন। পার্শ্ববর্তী পাকতিকার বারমাল জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী এক হামলায় তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন; স্থানীয়রা বলছেন ওই তিনজনই শিশু ছিলেন এবং একটি ঘর লক্ষ্য করেই আঘাত করা হয়। এই জেলা ও ক্ষতবিক্ষত অন্যান্য স্থানে কয়েকটি পৃথক হামলার মিলিত হিসাবেই খবরগুলো তৈরি হচ্ছে।
নিহত ও আহতের সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে কিছু অসংগতি রয়েছে। সরকারি মুখপাত্রের দেয়া ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া সংখ্যা পুরোপুরি মিলছে না; তারপরও জেলা ও প্রাদেশিক সূত্রগুলো একযোগে বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হামলার বিষয়ে তৎক্ষণাৎ কোনো মন্তব্য করেনি। ইসলামাবাদ আগেই দাবি করে আসছে যে, তারা আফগান ভূখণ্ডে অভিযান চালালে তা মূলত পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে; বেসামরিক লোকজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করা হয় না বলে তারা বলছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সীমান্ত এলাকায় কিছুটা শান্তি ছিল; তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দুই দেশের মধ্যে সঙ্ঘাত তীব্র হয়ে ওঠে এবং মাঝে কিছুদিন বিরতির পর সাম্প্রতিক দফায় আবারও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা দেখা গেল। অতীতে সীমান্তে বড় ধরনের লড়াইয়ের সময় পাকিস্তান কাবুল ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল।
জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দুই দেশের সংঘাতে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ৩৯৭ জন আহত হয়েছে। ২০২১ সালে তালেবান দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কের টানাপোড়েন অব্যাহত; বিশেষ করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার দায়ে টিটিপি-সহ বিভিন্ন গোষ্ঠীকে আফগানিস্তান আশ্রয় দিচ্ছে কি না—এই নিয়ে দুইপক্ষের অভিযোগ-প্রতিবাদ চলছে।
আরও এক পরিণত সমস্যা হলো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়া ও অনেক সময়মানেই সীমান্ত বন্ধ হয়ে পড়া। অক্টোবর থেকেই সীমান্ত অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকার ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বারবারের সশস্ত্র মোকাবিলার মধ্যেই সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুগছে — বাড়িঘর ধ্বংস, পরিবারে শোক, আর জীবন ফিরে পাওয়ার অনিশ্চয়তা। আন্তর্জাতিকদিক থেকে পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও দ্রুত ও স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনা এখনও দূরপ্রসারী চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।