ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বিমানঘাঁটি আল-আজরাকে ব্যাপকভাবে আঘাত করেছে। আইআরজিসি বলছে, অ্যারোস্পেস ফোর্স একযোগে ১২টি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে এবং লক্ষভেদে আঘাত করে প্রধান কমান্ড সেন্টার ও নিয়ন্ত্রণকক্ষকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের দাবি মতে, ঘাঁটির রানওয়ে ও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা বহু যুদ্ধবিমানও ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এই হামলার খবর প্রকাশ করেছে এবং আল-আজরাককে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি হিসেবে বর্ণনা করেছে, যেখানে সিরিয়া ও ইরাক অপারেশনের জন্য ড্রোন ও যুদ্ধবিমান পরিচালনা করা হয়। ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এ হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আইআরজিসির প্রতিশোধী ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে বলেছে যে অভিযানটি নিখুঁতভাবে পরিকল্পিত ছিল এবং লক্ষ্যভেদে সংঘটিত হয়েছে। তবে এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি — আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থাগুলো এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে ক্ষয়ক্ষতির চাল-চিত্র বা তৃতীয় পক্ষের প্রত্যক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।
এর আগে বুধবার (১০ জুন) কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে হামলার খবর আসে এবং সামগ্রিকভাবে ইরান যেসব হামলার কথা বলছে তাতে কুয়েত ও বাহরাইনের তিনটি ঘাঁটিসহ মোট প্রায় ১৮টি সামরিক অবস্থান লক্ষ্যভূক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি নেটে টান থাকার আশঙ্কা করছেন।