জাতীয় সংসদের ফেলো-ফ্লোরে দিল্লি বিমানবন্দরে বাংলাদেশের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও নিন্দা জানানো হয়েছে। ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাইফুল আলম খান মিলন শনিবারের পরিবর্তে সংসদ অধিবেশনের পয়েন্ট অব অর্ডারে এ ঘটনার বিবরণ পেশ করে সরকারের প্রতি ব্যাখ্যা দাবি করেন।
মিলন বলেন, রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরও, এবং যথাযথ কূটনৈতিক চিঠি থাকা সত্ত্বেও, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা ডা. জাহেদকে দুই ঘণ্টা ধরে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। তিনি বললেন, শেষ পর্যন্ত উচ্চ মহলের নির্দেশে ঢুকতে দেওয়া হলেও ওই অপমানজনক আচরণের পর ডা. জাহেদ দিল্লি না গিয়ে কলম্বো হয়ে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন এবং সোমবার দুই পর্বে তিনি ঢাকায় ফেরেন।
সংসদ সদস্য মিলন এ ঘটনাটিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও দেশের মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে অভিহিত করে জিজ্ঞাসা করেন, এই ঘটনায় আমাদের কূটনৈতিক কোনো ব্যর্থতা রয়েছে কি না এবং সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছ থেকে সাংবিধানিক বিধি অনুসারে—সংসদের অনুরোধ মতো—একটি স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দাবি করেন।
স্পিকার মিলনের পয়েন্ট অব অর্ডারটিকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ না করে বলেন, এটি পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়; তবে সদস্য চাইলে পরে একটি নোটিশ দিতে পারবেন এবং তৎক্ষণات বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
প্রসঙ্গত, ডা. জাহেদ দিল্লিতে শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে অংশ নেন বলে যাচ্ছিলেন এবং সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ঘটনাটি সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ছড়িয়েছে। সংসদে উঠানো প্রশ্নসমূহ বাস্তবিকভাবেই দেশের কূটনৈতিক সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক স্তরে সরকারি প্রতিনিধিদের সম্মানের বিষয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে, এবং সংসদীয়ভাবে পূর্ণ বিচারের দাবি উঠেছে।