মুম্বাইয়ের রাস্তায় লাল ফেরারি চালাতে দেখা যাওয়ার পর বলিউড অভিনেতা রণবীর সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলে দিয়েছেন। লাইনে উঠা সেই ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়েছে এবং ভক্ত-নেতা বিতর্ক উসকে দিয়েছে—কেন ইমাজিন করা নতুন গাড়ির উচ্ছ্বাসের মাঝেই রণবীর তার আলোচিত ছবিটি ‘ডন ৩’ থেকে বেরিয়ে আসায় প্রযোজকরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলেছেন।
সোমবার মুম্বাইয়ের রাস্তায় যাওয়া-আসার সময় রণবীরকে নতুন লাল ফেরারি ২৯৬ জিটিবি মডেল চালাতে দেখা যায়। ভারতীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে এই গাড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৩৬ লাখ রুপির আশে-পাশে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বলছেন, এই গাড়ির দাম মুম্বাইয়ের কয়েকটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মূল্যের সমান বা তার থেকেও বেশি।
তবে এই বিলাসবহুল গাড়ি-সংক্রান্ত আড্ডার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ এক বিতর্ক ছুঁয়ে আছে। প্রযোজক ফারহান আখতার দাবি করছেন, রণবীর সিং শেষ মুহূর্তে ‘ডন ৩’ থেকে সরে দাঁড়ালে তাদের প্রায় ৪৫ কোটি রুপি ক্ষতি হয়েছে। এই অভিযোগ উঠার পর সিনেমা শিল্পের কর্মীদের সংগঠন ‘ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ’ রণবীরের বিরুদ্ধে অসহযোগ নির্দেশিকা জারি করে।
পরবর্তীতে রণবীরের পক্ষ থেকে আইনি নোটিশ পাঠানোর পর ওই সংগঠনটি সেই নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে। রণবীর নিজে সরাসরি বিবৃতি না দিলেও তাঁর মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিনি এই বিষয়ে ‘পরিমিত নীরবতা’ বজায় রাখবেন।
বর্তমানে এই দ্বিপক্ষীয় বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ইন্ডিয়ান মোশন পিকচার্স প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন (ইমপা)-এর কাছে পাঠানো হয়েছে। ইমপা উভয় পক্ষের যুক্তি ও চুক্তিপত্র খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানানো হয়েছে।
ইমপা সভাপতি অভয় সিনহার কথায়, তারা সিনেমা তৈরির প্রাথমিক খরচ এবং দুই পক্ষের চুক্তি শর্তাবলী দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি বলেন, ‘প্রযোজকরা যদি সততা দেখিয়ে ৪৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে থাকে, আমরা উভয় পক্ষকে বসাব এবং সমাধানের চেষ্টা করব। তারা চাইলে আদালতের দ্বারও খুলে আছে। আমরা অন্ধভাবে কোনো পক্ষের পক্ষে থাকব না—যিনি সঠিক, তাঁর পাশে থাকব।’
এই ক্ষতিপূরণ ও চুক্তি-তর্ক যতই এগোনোক, অভিনেতা রণবীর সিংয়ের কর্মজীবন অন্যদিকে সাফল্যের রেকর্ডও ধরে রেখেছে। তাকে সর্বশেষ দেখা গেছে অত্যন্ত সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ সিরিজের দ্বিতীয় কিস্তিতে, যা এ পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার কোটি রুপি আয় করেছে।