ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছেন সরকার। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা অনুবিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভার থানার ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পরীমনি নাসির উদ্দিন মাহমুদকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন সাকলায়েন। ঐ সময়ে পরীমনির সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ ওঠার পর তাকে বদলি করা হয়, এবং তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়।
অপরদিকে, পরীমনির বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ১৮ জুলাই নাসির উদ্দিন মাহমুদ হত্যাচেষ্টা, মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের হয়। এর প্রেক্ষিতে, একই বছরে ৪ আগস্ট তার বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে র্যাব তাকে বিদেশি মদসহ গ্রেফতার করে। তার পর থেকে তাকে বিভিন্নবার রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং তিন দফায় মোট ৭ দিন জিজ্ঞাসাবাদ চলতে থাকে। গ্রেফতারের ২৭ দিন পর, ১ সেপ্টেম্বর, তিনি জামিনে মুক্তি পান।
প্রসঙ্গত, রাত্রিগামী ঘটনায় সমালোচনার শুরু হলে প্রথমে সাকলায়েনকে ডিবি থেকে সরিয়ে মিরপুরের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টে (পিওএম) যোগদান করেন। পরে অন্য একত্রে তাকে ঝিনাইদহ ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়।
১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ডিএমপিতে কর্মরত থাকাকালে পরীমনি ও গোলাম সাকলায়েনের দেখা ও যোগাযোগ শুরু হয়। এ সংক্রান্ত সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, তিনি পরীমনির বাসায় নিয়মিত রাত্রিযাপন করেছেন। পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখার বিশ্লেষণে জানা যায়, ২০২১ সালের ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে বিভিন্ন সময় তিনি তার মোবাইল ফোনের সিডিআর বিশ্লেষণ অনুযায়ী পরীমনির বাসায় অবস্থান করছেন।
