বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নীতিগত সহায়তা বাড়ালে দেশের রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তিনি জানান, তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি আরও পাঁচ থেকে ছয়টি খাতে লক্ষ্যভিত্তিক নীতি ও সহায়তা দেওয়া হলে রপ্তানি বহুমুখীকরণ সহজ হবে এবং আয় বাড়বে। চামড়া ও পাটখাতের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের মাধ্যমে প্রযুক্তি ও বাজারপ্রবেশে সহায়তা নেয়া হচ্ছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যাপিডও রপ্তানি বহুমুখীকরণে সম্ভাবনাময় খাতগুলো চিহ্নিত করে তা উন্নয়নের সুপারিশ করেছে। তাদের সংগৃহীত তথ্য বলছে, বৈচিত্র্যকরণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি ছাড়া এলডিসি উত্তরণের পর কিছু পণ্যের জন্য বাজারের সুবিধা সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফ বলেন, এসব খাতের ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে হবে; একই সঙ্গে রপ্তানি প্রণোদনার বিকল্প সহায়তা ব্যবস্থা নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।
চলতি বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ সার্বিকভাবে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশের) কাতার থেকে উত্তরণ করতে পারে—তা নাও ঘটতে পারে; সরকারের আবেদন অনুযায়ী জাতিসংঘ থেকে সময় বাড়িয়ে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সুবিধা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক সতর্ক করেছেন, যদি অতিরিক্ত সময় যথাযথভাবে কাজে লাগানো না হয় তবেই উত্তরণের সুফল পাওয়া যাবে না।
র্যাপিডের গবেষণায় বলা হয়েছে, এলডিসি উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা থাকলেও অন্যান্য ট্যারিফ সুবিধা পাওয়া কঠিন হতে পারে। এতে তৈরি পোশাক ছাড়াও চামড়াজাত পণ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে হোম টেক্সটাইল, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ক্ষেত্রে ভারতের, ইউরোপের ও চীনের বাজারে রফতানি শূন্য দশমিক দুই শতাংশ থেকে শুরু করে ১২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়া সম্ভাবনা রয়েছে—এই ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বর্তমানে কৃষি ও উৎপাদন খাত মিলিয়ে এক মিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি করে এমন পণ্যের সংখ্যা ১ হাজার ৩৯৪টি। এই তালিকার পণ্যের জন্য লজিস্টিক, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা সক্ষম করে তুলতে হবে যেন বাজারের মানদণ্ড বজায় থাকে এবং নতুন সুযোগ গ্রহণ করা যায়।
সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিগত সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরকালে পাটশিল্প উন্নয়নে চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, নভেম্বরে না হলেও আগামী তিন বছরের মধ্যে এলডিসি কাতার থেকে উত্তরণ নিশ্চিত হবে এবং সেই সময়ে দেশের রপ্তানি আয় বাড়াতে প্রস্তুত থাকতে হবে।
সর্বশেষে, সরকারি নীতিসহায়তা ও বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রণালয় ও গবেষকরা উভয়ে বলেছেন: দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ, ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব করে নতুন খাতে বিনিয়োগ বাড়ালে বাংলাদেশ রপ্তানি আয় বাড়িয়ে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের আপন লক্ষ্য স্পর্শ করতে পারে।