আজ শুক্রবার পবিত্র আশুরা, হিজরি ১৪৪৮ সালের মহররম মাসের ১০ তারিখ। এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক বিভিন্ন দিক থেকে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। এটি শুধুমাত্র শোকের দিন নয়, বরং মানবতার জন্য এক গর্বজনক ইতিহাসের সাক্ষ্যও বহন করে।
হিজরি ৬১ বছরের এই দিনে, ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রাঃ) ও তার পরিবারের সদস্যরা ইয়াজিদের বাহিনীর হাতে শাহাদাৎ লাভ করেন। এই ভয়াবহ ঘটনা মুসলমান ইতিহাসে এক বিরাট শোকাবহ অধ্যায় রচনা করেছে। মহররমের ১০ তারিখে এই ঘটনার স্মৃতি আজও মহান মুসলমানদের হৃদয়ে অম্লান। মুসলমানরা এই দিনটি গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তির সাথে পালন করে আসছেন, মনে রেখে তাদের মহান আত্মত্যাগের গল্প।
‘আশুরা’ শব্দটি আরবি ভাষা থেকে এসেছে যেখানে এর অর্থ ‘দশ’। অর্থাৎ আশুরা মানে দশম দিন। মহররম হলো হিজরি সূচিসূচক বছরের প্রথম মাস, এবং এই মাসের ১০ তারিখকে ‘আশুরা’ বলে ডাকা হয়। এই দিনে বিভিন্ন তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রাঃ) ও তার পরিবার শহীদ হন। তারা সত্য ও ন্যায়ের জন্য সংগ্রাম করে শহীদ হয়েছেন, যা মানব ইতিহাসের অসাম্প্রদায়িক ও ন্যায়ের পক্ষে এক বিরাট দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। এই দিনটি শুধুমাত্র শোকের নয়, বরং অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, সত্য ও সুন্দরতার পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্যও অনুপ্রেরণা যোগায়।
এ ছাড়া, ইসলামের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মধ্যেও এই দিনে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। যেমন, মুসলমানের বিশ্বাস, হজরত মুসা (আঃ) ফিরাউনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পর এই দিন মুক্তি লাভ করেন। ইব্রাহিম (আঃ) নমরুদের অগ্নিকুন্ড থেকে রক্ষা পান। এই মহামাত্রিক ঘটনারাও এই দিনটির মর্যাদা বাড়িয়েছে। মুসলমানরা এই দিনে আমল করেন নফল রোজা, যথাযথ নামাজ, দানখয়রাত, জিকির ও আসকারের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা কামনা করেন।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে, এই পবিত্র দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বার্তা দিয়েছেন। তারা পবিত্র আশুরার শিক্ষা গ্রহণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক, ন্যায্য ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ দিনটি উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বিভিন্ন বেসরকারি মাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা, আলোচনা, মিলাদ মাহফিল, কোরআনখানি, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন চলছে।
শিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা দিনটি যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও শোকের পরিবেশে পালন করছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাজিয়া মিছিল, শোকসভা এবং অন্যান্য ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এই দিনটি সফল ও নির্বিঘ্ন ভাবে পালন নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এছাড়া, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করে, মিছিলে ব্যবহৃত নিশানের উচ্চতা, ধারালো অস্ত্র, দাহ্য পদার্থ ও সন্দেহজনক প্যাকেটের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আতশবাজি, পটকা ও শব্দ তৈরী যন্ত্র ব্যবহার না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।

