সারাদেশে শিশুদের জন্য বিশেষ এই কর্মসূচি কয়েক দিন ধরে চলবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, যদি প্রথম দিনে কোনও শিশু ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়া থেকে বাদ যায়, তবে পরের দিনগুলোতে তার জন্য আবার ক্যাপসুল দেওয়া হবে। যাতে করে কোনো শিশুও এই কার্যক্রমের বাইরে না থাকে।
সাখাওয়াত হোসেন বকুল আরও জানান, আজ থেকে শুরু হয়ে এই ক্যাম্পেইন পুরো দেশের শিশুদের মধ্যে ব্যাপকভাবে চালানো হবে। প্রথম দিনে কিছু শিশু বাদ গেলে, পরের দিন আবার তাদের খাওয়ানো হবে, এবং এই চক্রক্রম আগামী দিনগুলোতে চলমান থাকবে। তিনি এই কথা বলেন রোববার (২৮ জুন) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিষ্কার করে বলেন, শুধু ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ালেই হবে না, শিশুর মায়ের দুধ খাওয়ানোও জরুরি। শিশুর জন্মের পরপরই মা-সন্তানকে শাল দুধ খাওয়াতে হবে যাতে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, শালদুধের মতো বড় কোনও সম্পদ আর কিছু হতে পারে না। এ ছাড়াও শিশুর জন্য পানি, মধু, চিনি এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো উচিত যাতে শিশুর শরীরে পূর্ণ পুষ্টি গড়ে ওঠে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে শিশুদের রোগ প্রতিরোধে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে হাম—সহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগের মোকাবিলায় এই ক্যাপসুল কার্যকর। গত সরকারের সময় এই ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি থাকলেও এখন যোগ্যতা অনুযায়ী পর্যাপ্ত টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। ইউনিসেফের সহায়তায় এখন হাতে আছে ২ কোটি ৬০ লাখ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল, যার মধ্যে ২ কোটি ৫৫ লাখ শিশুকে এই ক্যাপসুল দেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে টিকার মান সম্পর্কেও আশ্বস্ত করে বলেন, টিকার মান অত্যন্ত উন্নত এবং পরীক্ষিত। ইউনিসেফের সঙ্গে নিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেশীয় ব্যবহারের জন্য টিকা আনা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউসুফ আলীসহ অনেকে।

