অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যাংক রেজুলেশন আইনের বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে, একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকের পুরোনো মালিকরা আবারও মালিকানায় ফিরার সুযোগ পাবেন না। পাশাপাশি, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য অর্থ ফেরতের প্রকল্পের নকশাও তিনি প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর বক্তৃতার সময় তিনি এই ঘোষণা করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬-এর বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের স্পষ্ট বার্তা, যারা দেশের অর্থসম্পদ লুট করেছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আর আমানতকারীদের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের অঙ্গীকার।
গেল মার্চ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশটি আইনগত রূপ দেয়া হয় ১০টি নতুন ধারা যুক্ত করে। তবে সংসদে এ আইনের পাসের আগে নতুন করে ১৮(ক) ধারা যোগ করা হয়, যেখানে বলা হয়েছিল, ব্যাংক রেজুলেশন আয়ত্তে আসার আগে ব্যাংকের শেয়ারধারীরা চাইলে পুনরায় শেয়ার, সম্পদ ও দায়ভার গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারবে। একইভাবে, বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এই সুযোগ দিতে পারবে।
অন্যদিকে, এই ধারাটি যুক্ত হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তোলে, এটি বিলম্বিতভাবে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও কিছু শক্তিশালী আমানতকারীর হাতে পুনরায় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তীব্র জনমতের চাপের মধ্যে সরকার অবশেষে এই ধারাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
এছাড়া, অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তৎক্ষণিক অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। বাকি অর্থ পর্যায়ক্রমে পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষভাবে ক্যানসার ও কিডনি ডায়ালাইসিস রোগী, হজ সঞ্চয়কারী ও ডিপিএস গ্রাহকদের জন্য মানবিক সুবিধা রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকার এখন ঋণনির্ভর অর্থনীতির পরিবর্তে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। তিনি জানান, আগামী অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ছয় হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে, পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন খাতে বেশি বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনাও বৈঠকে নেওয়া হয়েছে।

