জাপানের বিরুদ্ধে ম্যাচে ৫৫-৫৬ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকা ব্রাজিলের পক্ষে হারের শঙ্কা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবু সেলেসাওরা আত্মবিশ্বাস রেখে ফিরে এলে ম্যাচে উল্টে দাঁড়ায়—শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয়ে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনে নিশ্চিত হয়। একই দিনে জাপানসহ ব্রাজিলের সম্ভাব্য আরও দুই প্রতিদ্বন্দ্বীও টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে গেল।
সি গ্রুপ সেরা হওয়ায় ব্রাজিলকে নকআউট পর্বে জাপানের বিরুদ্ধে খেলতে হয়। যদি তারা রানার্সআপ হতো, তখন নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হতে হতো; আর তৃতীয় হয়ে নকআউটে উঠলে জার্মানির সঙ্গে খেলতে হতো। কিন্তু ভাগ্যক্রমে লাতিন আমেরিকার সম্ভাব্য কোন প্রতিপক্ষই শেষ ৩২-এ টিকে থাকতে পারেনি।
জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে ২৯ মিনিটে কাইশু সানোর গোলে এগিয়ে যায় জাপান। সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি তারা। ৫৬ মিনিটে কাসেমিরো সমতা ফিরিয়ে আনেন এবং খেলার যোগ করা সময়ে গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ব্রাজিলের হয়ে ব্যবধান গড়ে গোল করে দলকে জয়ের পথে নেন। জয়ের তবিয়তে ফিরে গেলেও জাপান প্রত্যাশা ভাঙা মন নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করে।
ব্রাজিল নকআউটে ওঠার দেড় ঘণ্টা পরে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হয় জার্মানি। প্রথমে তারা পিছিয়ে পড়লেও পরে সমতা আনতে সক্ষম হয়; তবে টাইব্রেকারে আর জার্মানীর ভাগ্য সহায়তা করে না। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো হিলের চমৎকার পারফরম্যান্সে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হার স্বীকার করে চারবারের চ্যাম্পিয়নরা।
নেদারল্যান্ডস-মরক্কো ম্যাচও টাইব্রেকারে গড়ায়। মূল সময়ে উত্তেজনা তুঙ্গে—৭২ মিনিটে কোডি খাকপোর গোল নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেয়, কিন্তু যোগ করা সময়ে ইসা দিওপ মরক্কোকে ফিরিয়ে নিয়ে যান। পেনাল্টি শুটআউটেও শেষ হাসি হাসে আফ্রিকানরা, ৩-২ গোলে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে তারা আগিয়ে যায়।
সংক্ষেপে, ব্রাজিল নকআউটের প্রথম ধাপ অতিক্রম করল; অন্যদিকে একই দিনে জাপান, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের সম্ভাব্য হুমকি হওয়া দলের বিদায় ব্রাজিলের জন্য সহজ করে দিয়েছে পরের রাউন্ডের পথ।