জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডের মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্ট হওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল রায় প্রদান করেন। এই মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার উসকানি দেওয়া। হাসানুল হক ইনু একজন প্রভাবশালী তথ্যমন্ত্রী ছিলেন, ১৪ দলীয় জোটের একজন শরিক নেতা। তার সাথে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তার নেতৃত্বে ২৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করার জন্য নানা পরিকল্পনা চলছিল। এই সময়ের ফোনালাপে দেখা যায়, তারা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সেই বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ফোনালাপে শেখ হাসিনাকে বারবার বলা হয়েছে, সেনা পাঠানো হচ্ছে এবং হেলিকপ্টার দিয়ে সোজা বোম্বিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। তারা লক্ষ্য করেছেন, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, উত্তরা, বাড্ডা, গুলশান এবং যাত্রাবাড়ীর মতো এলাকায় মিছিল যেন ঠেকানো যায়। ইনু নির্দেশ দিয়েছেন, শুধু ব্যারিকেড দিয়ে থাকলে হবে না, প্রতিরোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে, গ্রাউন্ডে নেতৃত্ব দানকারী মিছিলের নেতাদের শনাক্ত করে তাদের দ্রুত আটক করতে বলা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও বিভিন্ন নেতাকে এই কাজের জন্য নিয়মিত তালিকা তৈরি করতে বলা হয়। তারা জানিয়েছেন, মোহাম্মদপুরে কিছু পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেই সব পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্দোলন দমন করা হবে। এছাড়াও, তারা ইন্টারনেট সংযোগ চালু ও ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা করেছেন, যাতে সচেতনতা ও প্রোপাগান্ডা আরও ছড়িয়ে পড়ে। এক কথোপকথনে ইনু বলেন, সরকারের বিরোধিতা নয়, বরং বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা লক্ষ্য করে এই পরিকল্পনা। তারা দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশে নতুন সরকারের আসার কোনও সম্ভাবনা নেই। অবশেষে, তারা বিভিন্ন তালিকা করে দুর্বল ও শক্তিশালী নেতাদের চিহ্নিত করে, শহর ও জেলায় অব্যাহতভাবে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। এইসব আলাপচারিতায় স্পষ্ট হয়, তারা রাষ্ট্রকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনা করছে।
