বজ্রঝড়ের কারণে এক ঘণ্টা বিলম্বিত হয়ে শুরু হওয়া রাউন্ড-৩২ ম্যাচে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠেছে সহ-আয়োজক মেক্সিকো। এই জয়ে ৪০ বছরের বিরতির পর নকআউটপর্বে প্রথমবারের মতো ম্যাচ জিতল মেক্সিকো।
খেলা শুরু থেকেই গতিতেজ মেক্সিকো আধিপত্য দেখিয়েছে। লুইস রোমোর নিখুঁত ক্রস থেকে রাউল হিমেনেজ ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে হেড নিলেও বল অল্প চারে পোস্ট স্পর্শ করে বাইরে গিয়েছিল। ১৭ বছর বয়সী কিশোর মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা দুর্দান্ত এক শট নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা গোলের দাবিদার হিসেবে চোখ কাঁপিয়েছিলেন, তবে তার শক্তিশালী শটও পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।
শুরুর বার্তার পরে ধীরে ধীরে খেলা নিয়ন্ত্রণে আনে ইকুয়েডর, কিন্তু মেক্সিকোও সুযোগগুলো কাজে লাগাতে শুরু করে। ম্যাচের ২২ মিনিটে রবার্তো আলভারাদোর নিখুঁত থ্রু পাস ধরেই কলম্বিয়ায় জন্ম হলেও মেক্সিকো হয়ে খেলছেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস পদক্ষেপ নিয়ে নিজেকে ঘুরিয়ে দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ান — এটি তার টুর্নামেন্টের তৃতীয় গোল।
মাত্র নয় মিনিট পরেই ব্যবধান বাড়িয়ে দেয়া হয়। কিনিয়োনেসের সঙ্গে ওয়ান-টু-পাস বিনিময়ের পর রাউল হিমেনেজ ক্লাসিকলি ফিনিশ করে বল জালের ওপরের কোণে পাঠান; এটি তার জাতীয় দলের ক্যারিয়ারের ৪৭তম গোল।
ম্যাচের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ইকুয়েডরের পিয়েরো হিঙ্কাপিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ ঢাকা অবস্থায় আচরণ করলে রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখান, যা ইকুয়েডরের জন্য বড় ধাক্কা ছিল।
মেক্সিকো এখন নিজেদের সর্বশেষ সাত ম্যাচই জিতেছে, আর ২০২৬ সালে মাঠে নেমে ১২ ম্যাচের মধ্যে ১০টিতে জয় পেয়েছে তারা। অতীত হিসাবেও অনন্য এক কীর্তি — ১৯৯০ বিশ্বকাপের ইতালির পর মেক্সিকো প্রথম দল যারা টানা চারটি ম্যাচ জিতেছে কোনো গোল হজম না করেই।
আজতেকা স্টেডিয়ামের গ্যালারি উচ্ছ্বাসিত ছিল, আর উল্লাসে ভাসছে স্টেডিয়াম। শেষ পর্যন্ত উভয় দলই চেষ্টা চালালেও আজকের স্কোরলাইন আর বদলায়নি এবং মেক্সিকো নিশ্চিত করে দিল পরের রাউন্ডের টিকিট।
এবার মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড ও গণতান্ত্রিক কঙ্গোর মধ্যে বিজয়ী—সেই ম্যাচ হবে ৬ জুলাই। মেক্সিকো এখন শেষ ষোলোর দলে পৌঁছে স্বপ্নের যাত্রা অব্যাহত রাখার আগ্রহ জমাতে বসেছে।