গত মাসে পাকিস্তানকে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ করে র্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ তুলেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই সুখের দিন বেশি স্থায়ী হয়নি—জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ে এক ধাপ পিছিয়েছে নাজমুল শান্তের দল। বর্তমানে তারা টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে আটে নামেছে, আর পাকিস্তান এক ধাপ এগিয়ে সাত নম্বরে উঠে এসেছে।
ম্যাচ শুরুর আগেই ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথম দিনের দুর্বল ব্যাটিংই সবকিছু পাল্টে দেয়—টসে হেরে মাত্র ১৪০ রানে অলআউট হয়ে পিছিয়ে পড়ে টাইগাররা। সেই বিশাল ব্যাটিং ধস বড় স্কোর গড়ার সুযোগই আটকে দেয়।
জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংসে ফিরে আসে এবং তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪১০ রানে। বড় টার্গেট পেয়ে বাংলাদেশের বিপর্যয় প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসে আবারও ব্যাটাররা ভাঙন ধরায়—টপ অর্ডার বা মিডল অর্ডারের কেউই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে পারেনি। ক্রমাগত উইকেট পড়ে যাওয়ায় আউট হওয়ার দৌড়ে অংশ নেওয়ার মতো প্রতিযোগিতায় নেমে দেয় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে তারা ১৮৫ রানে অলআউট হয় এবং ইনিংস ও ৮৫ রানে পরাজয় স্বীকার করে।
২৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশ এরকম ইনিংস ব্যবধানে হার খুব কম পেয়েছে, আর জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে এটি শুধু দ্বিতীয়বারের মতো ঘটে—প্রথমবার ছিল ২০০১ সালে। প্রায় ২৫ বছর পর রোডেশিয়ার বিরুদ্ধে আবারও এমন ফল খেতে হলো টাইগারদের।
টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের ব্যাপারেও ফলাফল দলের সুখ দীর্ঘস্থায়ী রাখতে পারেনি। গত মে মাসে পাকিস্তানকে ঘরের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে রেটিং পয়েন্ট বেড়ে ৭৮ হয়েছিল বাংলাদেশিদের; তবে বর্তমান এক ম্যাচ হারতে গিয়ে তারা ৫ পয়েন্ট হারিয়ে এখন ৭৩ পয়েন্টে নেমেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ৭৫ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে উঠেছে।
এই হার বাংলাদেশের জন্যরত চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে—টেস্টে ধারাবাহিকতা ফেরানোর প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে। নাজমুল শান্ত ও তার সতীর্থদের এখন দ্রুত সমাধান খুঁজে মাঠে ফিরতে হবে, না হলে র্যাঙ্কিংয়ে আরও পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।