বাংলাদেশ সেনা, নৌকা ও বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত, অপসারণ, অব্যাহতি এবং বরখাস্ত হওয়া ১৫০ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে সরকারজরুরি ঘোষণা অনুযায়ী। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল নেপথ্য ছিল ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে চাকরিজীবনে বৈষম্য ও ন্যায়বিচারের শিকার হয়ে থাকাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বুধবার এ ব্যাপারে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে প্রতিরক্ষা সচিব মোঃ আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষর করেছেন। এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তাদের অবিলম্বে সুবিধা প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই সেনা বাহিনী থেকে, কিছু নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর রয়েছেন। উল্লেখ্য, বিবিধ ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক বা অকালীন অবসর বাতিল করে তাদের বয়সসীমা পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত চাকরি বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, বেশ কিছু কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল, মেজর জেনারেল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও কর্নেল পদে উন্নীত করা হয়েছে। এর ফলে, তাঁরা নিজের পদে চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত বকেয়া বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাবেন। কারও জন্য এককালীন অর্থের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত, যা বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি বয়স ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় পদের সুযোগও রাখা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ ও তিন বাহিনীর মতামতের ভিত্তিতে তৈরি। এতে প্রতিটি কর্মকর্তার পুরানো ও সংশোধিত অবসর, পদোন্নতিসহ সুবিধার পুরো বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৯ সালে নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়েছিল; নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাদের অবসর সংশোধন করে স্বাভাবিক বা অতিরিক্ত পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে, মেজর জেনারেল সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমী ২০০৯ সালে বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত হন, কিন্তু অবসর সময় পরিবর্তন করে ২০১৩ সাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আবার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমীকে ২০১১ সাল থেকে ভূতাপেক্ষভাবে উন্নীত করে মূল পদে পুনরায় পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল মোস্তাফিজুর রহমান ও বিমানবাহিনীর এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের ক্ষেত্রেও একই রকম সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, এবং এর মাধ্যমে ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সময়ে কর্তৃপক্ষের বৈষম্য ও অন্যায়ের শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের মর্যাদা ও অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল, সামরিক বাহিনী ও সরকারী ব্যবস্থাপনায় সাহস, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।

