কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও দফায় দফায় বোমা বিস্ফোরণ ও ভারী অস্ত্রের গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা সীমান্ত এলাকাকে প্রকম্পিত করে তুলেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এসব বিকট শব্দে হোয়াইক্যং ও হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার প্রশ্নে অনেক জেলেরা নাফ নদী দিয়ে দ্রুত তীরে ফিরে আসছেন, এবং ঘটনাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। স্থানীয় সূত্র জানায়, টেকনাফের হোয়াইক্যং ও হ্নীলা সীমান্তবর্তী ব্লিবাজার ও কুমিরখালী এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এই বিস্ফোরণের তীব্রতায় সীমান্ত সংলগ্ন কিছু বাড়িঘর কেঁপে ওঠে বলে স্থানীয়রা জানান। এর আগে বুধবার দিন ও রাতেও মিয়ানমার মংডু এলাকায় বিমান হামলার খবর পাওয়া যায়। টেকনাফের সাংবাদিক হুমায়ুন রশীদ বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে দু’টি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, এরপর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, প্রায় এক বছর আগে একই এলাকায় আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষকে আতঙ্কে রেখেছিল। আবারও সংঘর্ষ শুরুর খবর শুনে সাধারণ জনগণের মধ্যে আবারও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় জেলে মুজিবুর রহমান বলেন, সকালে নাফ নদীতে মাছ ধরা অবস্থায় ছিলাম, কিন্তু ওপারে থেকে বিভিন্ন বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনে ভয়ে দ্রুত তীরে ফিরে এসেছি। উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে বিস্ফোরণের শব্দ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে এবং সীমান্তে সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে, যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আধিকারিকদের সক্রিয় থাকতে বাধ্য করছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এ ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জেনেছি, যার কারণে টেকনাফে কিছুটা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে জানান, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বিজিবি ও কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল চালাচ্ছে। অন্যদিকে, রাখাইনে আবারও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে জান্তা বাহিনী। এতে বহু বেসামরিক নাগরিক হতাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে সাগাইং অঞ্চলে তথ্য মতে, জান্তাবিরোধী দু’টি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, রাখাইনের বুথিডং উপজেলায় যুদ্ধবিমান থেকে শহরের আশপাশের গ্রামগুলোতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১০টি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করা হয়, যা বেসামরিক মানুষজনের জন্য হুমকি তৈরি করেছে। পাশাপাশি, সাগাইংয়ের মোনিওয়ায় শহরে গত কয়েকদিনে পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) ও পিপলস সিকিউরিটি ফোর্সের (পিএসএফ) মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যেখানে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন।

