পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় এক বৃদ্ধাকে গভীর ঘুমের মধ্যে শিল-পাটা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের এক ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরের দিকে উপজেলার পূর্ব সুবিদখালী গ্রামে এই দৃষ্টান্তমূলক ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়রা জানান, সকালে আবর্জনা ও রক্তের দাগ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহত ব্যক্তির নাম উত্তম দেবনাথ (৬০), তিনি ওই গ্রামের দিনমজুর হিসেবে পরিচিত। নিহতের ছেলে তাপস দেবনাথ (৩৮) তার ব্যতিক্রমিক কার্যকলাপ এবং অসংলগ্ন কথাবার্তা পরে জিজ্ঞাসাবাদে আটক হন। বর্তমানে তিনি ইসলামাবাদ থানায় রয়েছেন। পুলিশ বলছে, তাপসের প্রথম স্ত্রী ঢাকায় থাকেন, তিনি রওয়ানা দিয়েছেন। উত্তম দেবনাথের দ্বিতীয় স্ত্রী কানন দেবনাথ মানসিকভাবে অসুস্থ বলে মনে করা হচ্ছে। আশপাশের স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, ভোর ৪টার দিকে প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার শেষ করে উত্তম ও তার ছেলে তাপস ঘুমাতে যান। তার ব্যতিক্রম ছিল না। কিন্তু ওই দিন রাতে মাতাল-জুয়ার সাথে জড়িয়ে খেলার সময় তাপস তার বাবার কপালে শিল-পাটা দিয়ে আঘাত করে। অজান্তে ঘুমন্ত বাবা রক্তাক্ত হয়ে পড়েন। কানন দেবনাথ তখন ঘরে থাকতেন এবং চিৎকার করে সাহায্য চাইতে থাকেন। প্রতিবেশীরা গিয়ে দেখেন, উত্তম রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। এরপরই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ বলছে, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তাপসকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে, এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
