বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ তোলার জন্য মার্কিন উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখপাত্র ও উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করার জন্য সরকার সবসময়ই সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ও একটি ব্যবসাও-friendly পরিবেশ গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। শনিবার ঢাকায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এবং যুক্তরাষ্ট্রের দপ্তর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।
ড. মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে সরকার বেসরকারি খাতের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, বিনিয়োগ সহজ করতে প্রয়োজনীয় সকল নীতিগত সহায়তা দেয়া হবে এবং স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছে। বাংলাদেশে বৃহৎ আকারের অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ workforce এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির কারণে বিনিয়োগের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।
উপদেষ্টা আরো জানান, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে মুনাফা দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ সহজ করা, উদার অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করা এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্পপার্ক ও হাইটেক পার্কে কর-সুবিধা সহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অতীতে যেসব প্রতিযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ ছিল, সরকার তা দূর করে সব ধরনের বিনিয়োগকারীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতের ক্ষেত্রে অঙ্গীকারবদ্ধ।
মার্কিন কোম্পানিগুলোর কাছে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানোর জন্য তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রযুক্তি ও দক্ষতা স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে তারা আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাছাড়া, উড়োজাহাজ, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), বস্ত্র, ওষুধ, কৃষি ভিত্তিক রপ্তানি ও ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও বিনিয়োগের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।
মাহদী আমিন আরো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে সম্পৃক্ত করে ‘ব্রেইন ড্রেইন’ থেকে ‘ব্রেইন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রোডশো আয়োজন, নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ অনুসন্ধান এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের সাথে মার্কিন কোম্পানিগুলোর ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা জরুরি।
আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং মার্কিন বিনিয়োগের সফলতা অন্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদেরও এ দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধিতে অ্যামচেম ও ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দপ্তর যে ভূমিকা রেখেছে, তার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।

