জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডাঃ জুবাইদা রহমান বলেছেন, শিশু দিবাযতœ কেন্দ্র কেবল শিশুদের নিরাপদ রাখার স্থান নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশ ও দেশ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। দক্ষ ও দায়িত্বশীল কেয়ারগিভারদের মাধ্যমে কর্মজীবী নারীরা নিশ্চিন্তে কাজের সুবিধা পান এবং শিশুরা প্রয়োজনীয় পরিচর্চা ও বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে থাকেন। সোমবার রাজধানীর পান্থপথে পানি ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘শিশুর প্রারম্ভিক যতœ ও বিকাশ’ বিষয়ক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
জুবাইদা রহমান আরও বলেন, শিশুদের জীবনের প্রথম বছরগুলোই তাদের শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক বিকাশের ভিত্তি গড়ে দেয়। এই পর্যায়টিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করে বুঝতে হবে, যদি মানসম্মত পরিচর্যা নিশ্চিত করা যায়, তবে একজন শিশুর মধ্যে মানবিকতা, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ এবং সামাজিক মূল্যবোধের দুর্লভ ভিত্তি গড়ে ওঠে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অনেক মা এখনো সন্তান পরিচর্যার ক্ষেত্রে নানা ধরণের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন। নিরাপদ ও মানসম্পন্ন দিবাযতœ কেন্দ্রের অভাব তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। বর্তমানে দেশে মাত্র ১২৩টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে সেবা প্রদান করছে মাত্র ৭ হাজার ৩৬০টি শিশু, যা দেশের মোট শিশুর সংখ্যার তুলনায় অনেকই অপ্রতুল। তাই প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশের জন্য কেন্দ্রের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
তিনি আরও বলেন, কেয়ারগিভাররা শুধু শিশুদের পরিচর্যাই করেন না, বরং তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাদের স্নেহ, মমতা ও দায়িত্বশীলতার ফলে শিশুর মধ্যে সততা, মানবিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, শৃঙ্খলা ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে। একই সঙ্গে শিশুদের উন্নয়নে তাদের অবদান নারীদের অর্থনৈতিকভাবে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগও বিস্তৃত করে।
ডাঃ জুবাইদা রহমান বলেন, মানসম্পন্ন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও শিশুর প্রারম্ভিক যতœ নিশ্চিত করলে জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও মানবিক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব। এই লক্ষ্য অর্জনে দেশের সব অঞ্চলে শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশের সেবা বিস্তৃত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদুর রহমান উল্লেখ করেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুধু পরিবারের উত্তরাধিকারই বহন করছেন না, আদর্শের উত্তরাধিকারও বহন করছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানগুলো এখন তার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমানের হাত ধরে আরও সম্প্রসারিত ও উন্নত হচ্ছে।
একমাত্র শিশু দিবাযতœ কেন্দ্রসমূহের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য ২০টি প্রকল্পের ‘শিশুর প্রারম্ভিক যতœ ও বিকাশ’ শীর্ষক ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শিশু সমন্বয়) শবনম মোস্তারী।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পানিসম্পদবিষয়ক মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন।
