প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালী মডেল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মোঃ সোহেল উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তথ্যটি বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থের স্বার্থে তাকে সরকারি কাজে থেকে বিরত রাখা প্রয়োজন এবং সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারার অধীনে আলোচ্য তদন্ত বা বিচার চলাকালে সরকারি কর্মস্থল থেকে তার বিরত থাকা অপরিহার্য। এর জন্য, তাকে গত ১ জুলাই থেকে সাময়িকভাবে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই সময় তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।এর আগে, এক লাখ ৩২ হাজার ২৮২ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় সোহেল উদ্দিনের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। গত ১ জুলাই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার ইভা মামলার বাদী সহকারী কর কমিশনার মোসাঃ তানজিনা সাথীর আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।আদালত সূত্র জানায়, ৯ জুন একই আদালত সোহেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। বাদীপক্ষের দাবি, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট আপস-সমঝোতার শর্তে জামিন পেলেও দীর্ঘ সময় বিকেলেও তিনি কোনো সমঝোতার উদ্যোগ নেননি বা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করেননি। এজন্য তার জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়।অপরদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আবুল কালাম খান আদালতে যুক্তি দেন, তার মক্কেল কোনও অর্থ আত্মসাৎ করেননি এবং তাকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।মামলার নথির বরাতে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সহকারী কর কমিশনার মোসাঃ তানজিনা সাথী। অভিযোগের মধ্যে বলা হয়, ২০১৭ সালে ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সোহেল উদ্দিনের সঙ্গে বাদী পরিচয় হয়, যা পরে প্রেমের সম্পর্কের রূপ নেয়। একসময় বিয়ের প্রতিজ্ঞা করে বাদী ও তার পরিবারের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে নানা প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে মোট দুই কোটি ৩২ লাখ ১১ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরে তিনি বাদীকে বিয়ে করেননি এবং নেওয়া অর্থও ফেরত দেননি বলে মামলায় অভিযোগ তুলে রাখা হয়।
