জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির এক নেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাসন্তী থানায় করা এক মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়, অভিযোগ হলো বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার। ধৃত ব্যক্তির নাম আফতাব মজুমদার, তিনি চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির আহবায়ক কমিটির সদস্য এবং ওয়্যারলেস এলাকার বাসিন্দা। সংগঠনের দপ্তর সূত্র জানায়, এই ঘটনায় আফতাব মজুমদারকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে, কারণ তিনি সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা বিরুদ্ধ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
চট্টগ্রাম চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন, গত ১৯ জুলাই এক তরুণী এই মামলা করেন। এরপর বুধবার তাকে হালিশহর এলাকা থেকে র্যাব গ্রেফতার করে থানায় সোপর্দ করে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মেয়েটির সঙ্গে প্রায় তিন মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে আফতাবের পরিচয় হয়। তিনি বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। তবে পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে শোনা যায় যে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। অনতিবিলম্বে ভুক্তভোগী ওই তরুণী থানায় অভিযোগ করেন। জানা গেছে, মেয়েটি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।
ঘটনার পর, সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, আফতাবকে দল থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির দপ্তর সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় এই বহিষ্কার নিশ্চিত করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, দলের নীতি ও শৃঙ্খলা রক্ষা প্রত্যেক সদস্যের মৌলিক দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে আফতাবের বিরুদ্ধে সংগঠনের নীতি পরিপন্থী কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাকে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কারের আদেশ এখন থেকে কার্যকর হবে ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই। এর অর্থ, এই তারিখ থেকে তার সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত ও পরিচয় থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।
অভিযুক্ত আফতাবের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অনুযায়ী, ১৪ জুলাই রাতে চান্দগাঁও এলাকার এক আবাসিক হোটেল সুইট প্যালেসে মেয়েটির সঙ্গে বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এরপর মেয়েটি বিয়ের জন্য বললেও তিনি অস্বীকার করেন এবং সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে ভুক্তভোগীর অনুসন্ধানে জানা যায় যে, আফতাব আগে থেকেই বিবাহিত ও তার একটি সন্তানের অস্তিত্ব রয়েছে। সব ঘটনা জানার পর, ১৯ জুলাই ওই তরুণী চান্দগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অভিযোগে মামলা করেন।
