লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানায় মাদক উদ্ধার অভিযানের সময় বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে মাদকসহ থাকা একটি প্রাইভেটকার ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে চার পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্লোজ করা হয়েছে। এই ঘটনার খবর শনিবার নিশ্চিত করেছেন হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার।
এই চার পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন, হাতীবান্ধা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তুহিন, এসআই রিমন মিয়া, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হাকিম এবং এএসআই লুৎফর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জুলাই দুপুরে গোপনসূত্রের ভিত্তিতে হাতীবান্ধার বোর্ডের হাট বাজারে একটি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সেখানে তারা এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দেয়। অভিযানের সময় একটি সাদা প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল ও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়।
하지만 জব্দকৃত এই আলামত থানায় না নিয়ে কিছু কৌশল বদলে কয়েক কিলোমিটার দূরে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্থানীয় লোকজনের সাথে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং দরকষাকাশি শেষে ওই চার পুলিশ কর্মকর্তা একজন মাদক চালান ১০ লাখ টাকা দেনায় ছেড়ে দেন। এরপর ওই ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজে বিষয়টি ধরা পড়ে এবং জনসম্মুখে আসে।
পরবর্তীতে ১৮ জুলাই অভিযানের জন্য ভবানিপুর গ্রামে গেলে গ্রামবাসীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়েন পুলিশ। এই ঘটনায় জেলার পুলিশ তদন্তে নামে এবং অভিযুক্ত চার পুলিশ কর্মকর্তাকে লালমনিরহাট পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে। একইসাথে, এ ঘটনাগুলোর তদন্তের জন্য একটি কমিটির গঠন করা হয়েছে।
হাতীবান্ধা থানার ওসি আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, ‘প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে, তাই চার কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা পুলিশ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।’

