প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, সরকার শুধুমাত্র জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে না, পাশাপাশি 1971 সালের জুলাই গণহত্যার বিচারও নিশ্চিতে রাখতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রোববার রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্সের’ (জেআরএ) আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লববিষয়ক প্রথম সম্মেলন’ এই ঘোষণা দেন তিনি। মাহদী আমিন বলেন, আমি আপনাদের আবেগ ও দাবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। আমি দৃঢ় প্রত্যয় সকল্প করছি, বর্তমান সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ে সংঘটিত গণহত্যার ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শাহাদতবরণের তরুণদের স্বপ্ন ছিল একটি সামাজিক বৈষম্যহীন, মানবিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত, সত্যিকার অর্থে স্বায়ত্তশাসিত বাংলাদেশ গড়া। এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তারা চান, দেশের প্রতিটি মানুষ মেধার মূল্যায়ন পাবে এবং কোন ধরনের বৈষম্য থাকবে না। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক আহত ব্যক্তি এখনও তাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি; কেউ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, কেউ বা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এইসব আহত ও শহীদ পরিবারের প্রতি সরকারের আন্তরিক সহায়ের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। মাহদী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের স্বপ্ন ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে এক বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার কাজ এগিয়ে চলেছে। তবে, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রভাব পুরোপুরি দূর করতে সময় লাগবে, কিন্তু শহীদদের আত্মত্যাগ ও তাঁদের পরিবারের প্রত্যাশার সম্পূর্ণ অনুসরণ করে ন্যায়বিচার ও একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যারা দীর্ঘ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, তাদের মধ্যে চারশতাধিক নেতা-কর্মী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গ করেছেন। এছাড়াও, গুম, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার অগণিত মানুষ রয়েছেন। এই সংগ্রাম বাংলাদেশের পক্ষে মূলত রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতির উন্নয়নের জন্য। তিনি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ঐক্যে এক হয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এদিকে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে মুখোমুখি হন। বক্তৃতা দেওয়ার সময় তারা একযোগে দাবি করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জুলাই গণভোটের রায় কার্যকর এবং জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। তারা দ্রুত এসব দাবির বাস্তবায়নের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

