রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অব্যাহত রয়েছে প্রবল বর্ষण। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলের কিছু জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের কারণে বন্যার বিপদ পাল্লায় পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে জানানো হয়, দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু এখনও মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবেই রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বেশ কিছু স্থানে অস্থায়ী দমকা হাওয়ার সাথে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে, সেখানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে। পাবিপত্র অনুযায়ী, আজ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত চলতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা বিভাগের কিছু স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আশা করছে যে, আগামী পাঁচ দিনের শেষে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে। অন্যদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানাচ্ছে, আগামী দু’দিনের মধ্যে তিস্তা ও দুধকুমার নদীর অববাহিকার পাঁচ জেলায় বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি, দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের ১১ জেলায় নদীর সঙ্গে লাগোয়া নিম্নাঞ্চলগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। সোমবার প্রকাশিত সতর্কবার্তায় জানানো হয়, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দু’দিনের মধ্যে তিস্তার লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া, তিন দিনের মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার সিলেট ও সুনামগঞ্জ, ধরলা অববাহিকার লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ায় এবং সোমেশ্বরী ও ভোগাই-কংসের শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার নদীর সঙ্গে লাগোয়া কিছু নিম্নাঞ্চল পানি সতর্কসীমা বা বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে আসতে পারে। ফলে এ এলাকায় নিম্নাঞ্চলের কিছু অংশ সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং নদীর পানির দ্রুত বৃদ্ধির কারণে আগামী দিনগুলিতে বন্যার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তাই নদীসংলগ্ন বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যেন তারা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারেন এবং নিরাপদে থাকেন।

