সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আপত্তিকর ভিডিও ও ব্যাংক কর্মকর্তা অপহরণ এবং নির্যাতনের অভিযোগে এনসিপির বগুড়া জেলা সংগঠনের সম্পাদক শওকত ইমরানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ব্যাপক সমস্যা সামনে আসার পর কেন্দ্রীয় কমিটি তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিলো এবং তাকে সাময়িকভাবে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে, কেন তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নোটিশ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে জারি করা হয়।
অভিযোগের তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, শওকত ইমরানের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সংগঠনের আদর্শের বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই কারণে তাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং উত্তরাঞ্চলের কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের কাছে তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়েছে।
এনসিপির বগুড়া জেলা মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব রিগান হোসেন জানান, দলের নীতিমালা অনুযায়ী, কেউ অভিযোগ করলে তা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে তদন্ত করা হয়। এ পর্যন্ত সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা চলমান। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অভিযুক্ত শওকত ইমরানের মোবাইল বন্ধ থাকায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রথমে, সোমবার (৩ আগস্ট), সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শওকত ইমরানের ২৭ সেকেন্ডের একটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তাকে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায় বলে দাবি করা হয়। এর আগে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ আসে, জনপ্রিয় ইসলামি ব্যাংকের নওগাঁ শাখার কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে, যাঁকে গত শনিবার(১ আগস্ট) শেরপুরের ফ্লাইওভার এলাকায় জোরপূর্বক গাড়ি তুলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এই ধরনের ঘটনা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

