বাংলাদেশ সরকার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে যে, ভারতের দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দণ্ডপ্রাপ্ত একটি ব্যক্তিকে সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই বিষয়ে উদ্বেগ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আত্মগোপনে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তি, যিনি গণহত্যার জন্য দণ্ডিত, তাকে আজ সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সামনে সরাসরি বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। ঢাকা এই ঘটনার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অঙ্গীকারের প্রতি ভারতের দুর্বলতা দেখেছে এবং এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়ে উদ্বিগ्न। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, এই ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং যারা ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের অপপ্রচেষ্টারই অংশ।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি ও চেতনা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তারা নিশ্চিত যে, বাংলাদেশ কখনো ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি হতে দেবে না এবং দেশের স্বাধিকার ও সার্বভৌম মর্যাদার জন্য আপসহীন। সেই সঙ্গে, দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তির ও তার সহযোগীদের বাংলাদেশে কোনো স্থান হবে না বলে জোর দিয়ে বলা হয়।
বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সার্বভৌম স্বার্থে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মান বজায় রেখে, ভারতসহ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে চায়। পাশাপাশি, ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দোষী ব্যক্তি হাসিনাকে দেশে ফেরানোর জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হলেও এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিপরীতভাবে, এই ব্যক্তিকে গণমাধ্যমে প্রশস্তভাবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিলে দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্কের জন্য নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মত প্রকাশ করা হয়।

