আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীর নাম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলীয় মহাসচিব হিসেবে বিএনপি তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, যা আজ নির্বাচন কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়। এসময় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান মনোনয়নপত্রটির প্রস্তাব দেন, এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সমর্থন করেছেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করা হয়েছে, এবং আগামি ২০ আগস্ট তাকে নির্বাচিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
চিফ হুইপ এও উল্লেখ করেন, এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সদস্যগণ উপস্থিত থেকে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। তিনি জানিয়ে দেন, ইতিমধ্যে ১১ দলীয় জোট থেকে কর্নেল অলি আহমদও রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পেয়েছেন, ফলে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
অন্যদিকে, জুলাই সনের সংবিধান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, নতুন কোনো সংবিধান লেখা হবে না, বরং দরকার হলে শুধু একটি বা কিছু শব্দের পরিবর্তন বা সংশোধন করা হবে। তিনি জানান, সংবিধানের কোনও একটি কমা বা দড়ি পরিবর্তন করলেও সেটি সংশোধন হিসেবে গণ্য হবে, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি, কার্যকর সংবিধান তৈরি করার লক্ষ্যে সবাই মিলিতভাবে কাজ করবেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তাহলে বিএনপির মহাসচিব পদে কে আসবেন তা সম্পর্কে নুরুল ইসলাম মণি কোনও সিদ্ধান্ত এখনই জানাতে চাননি। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী, নিয়ম মতো আমরা সিদ্ধান্ত নিই। বিরোধীদলের মন্তব্যের পাল্টা তিনি বলেন, ‘সংস্কার’ ও ‘সংশোধন’ এই শব্দদুটির অর্থ আমাদের উচিত পরিষ্কার বোঝা।
তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের সংবিধান ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১০৬ বার সংশোধিত হয়েছে, কিন্তু তারা নতুন সংবিধান লেখেনি। আমরাও কোনও নতুন সংবিধান লিখব না, বরং প্রয়োজন হলে এক বা একাধিক কমার পরিবর্তন বা সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানকে আপডেট করব। তিনি আরও বলেন, সবাই একত্রে বসে আলোচনা করতে হবে এবং একসাথে কাজ করে দীর্ঘমেয়াদি, সুদৃঢ় ও কার্যকর সংবিধান তৈরি করতে হবে। এতে কোনও দিনই সংবিধানে অপ্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা শুন্যযোগ হবে না, বরং এটি একটা দেশের ভিত্তির মতো থাকবে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, ၂၀ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে সরকার।

