আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন চিকিৎসক আশিক উল আকবর। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি প্রদান করেন, যেখানে তিনি ভয়ঙ্কর ও নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দেন।
জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৩ মে গাজীপুরের টঙ্গীতে তাঁর মামার বাসা থেকে সাদাপোশাকধারীরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। তিনি বলছেন, তখন তিনি রংপুরের প্রাইম মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সরকারের পতনের জন্য বিভিন্ন আন্দোলনে ও ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অংশ নেওয়ার জন্য মিথ্যা মামলায় আটকে রাখা হয় তার।
নির্যাতনের সময় তিনি বলতে গিয়ে বলেন, তাকে সারাক্ষণ চোখ মোড়ানো এবং হাতকড়া পরিয়ে রাখা হতো। খাওয়াতে দেওয়া হত শুধু এক হাত দিয়ে, অন্য হাতের বাঁধা ছিল। তাকে বাকিদের পাহারা দিয়ে রাখা হত। পায়খানা, প্রস্রাব ও গোসলের জন্য মাত্র তিন মিনিট সময় দেওয়া হত, আর যদি এর বাইরে কিছু করার চেষ্টা করত, প্রচণ্ড মারধরের শিকার হতো।
শিশুদের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগ দেওয়ার মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তার হাতের হাতকড়া খুলে গামছা দিয়ে বাঁধা হয়, পরে সেটির সঙ্গে হুক লাগিয়ে মেশিনের সাহায্যে শূন্যে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ওজন বেশি থাকায়, ঝুলানোর কারণে দুই হাতের বগলের চামড়া ছিঁড়ে যায়। নির্যাতনকারীর একজন বলেন, ‘ও অনেক মোটা, মরে যাবে’, বলার পর তাকে নামানো হয়। তবুও সে অস্বীকার করায়, তার দুই কানের লতিতে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়, যা তার জন্য মৃত্যুর মতো দ痛নাকর ছিল।
অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক চাপের ফলে তিনি নির্দোষ স্বীকারোক্তি করতে রাজি হন। পরে জোরপূর্বক একটি পত্রের লেখাগুলো সাদা কাগজে লিখিয়ে নেওয়া হয় ও তার ভিডিও ধারণ করে। দুই মাস গুম থাকার পর, তাকে জনসমক্ষে আনা হয়, পরনে ছিল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, জমজটুপি ও হেলমেট। ২০১৬ সালের ২১ জুলাই টঙ্গী থানায় একটি মিথ্যা মামলার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়।
১৩ মাস কারাভোগের পর হাই কোর্টের নির্দেশে তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরবর্তীতে, ২০২৩ সালে তিনি এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন। এই ট্রাইব্যুনালে তিনি বলেন, এই নির্যাতনের মূল হোতা ছিলেন শেখ হাসিনা, সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ র্যাবের জড়িত সদস্যরা, এবং সবৃচ উচু শাস্তি চেয়েছেন।
