বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশী শীর্ষ অ্যাথলেট জান্নাত বেগম এবং কবিতা রায়কে নিয়ে। তারা দীর্ঘদিন নারী হিসেবে প্রতিযোগিতা করে আসলেও সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে যে তারা আসলে পুরুষ। এই পরিচয় পরিবর্তন বা গোপন থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে, তাদের সমস্ত পুরস্কার বাতিলের পাশাপাশি আজীবন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
মাধ্যমে প্রকাশিত শুনানিতে জানানো হয়, দুজনের লিঙ্গপরিচয় নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল। জান্নাত বেগম থ্রো ইভেন্টের অ্যাথলেট এবং তার বয়স ২৮ বছর। অন্যদিকে, কবিতা রায় মাত্র ১৯ বছর বয়সে স্প্রিন্টার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তারা দুজনই নারীরূপে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আসছিলেন।
১৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন কমিটির সভায় তাদের পদক বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার সঙ্গে তাদের আজীবন খেলাধুলা থেকে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।
জানা গেছে, জান্নাত বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট এবং কবিতা নৌবাহিনীর সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে পরীক্ষার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল বোর্ড ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করে এবং ১১ মে তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট ফেডারেশনের কাছে পাঠায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জান্নাতের শরীরে নারীর স্বাভাবিক হরমোনের চেয়ে বেশ কিছু বেশি হরমোন উপস্থিতি। তার টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৯.৬৬ এনমোল/লিটার, যা বিশ্বসেরা অ্যাথলেটিকসের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা (২.৫ এনমোল/লিটার)এর প্রায় ৮ গুণ। অন্যদিকে, কবিতা রায়ের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৬.৫০ এনমোল/লিটার, যা সাড়ে ৬ গুণ বেশি।
বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের নিয়ম অনুযায়ী, নারী হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাসের জন্য ২.৫ এনমোল/লিটার এর নিচে থাকতেই হবে। এই নিয়ম অমান্য করার কারণে, এই অ্যাথলেটদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলি ইমাম তপন বলেন, ‘চিকিৎসক বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওরা দুজনই পুরুষ। তাই, তাদের সব পদক বাতিল করা হয়েছে। জান্নাতের কাছে ছিল নয়টি পদক, যার মধ্যে কিছু স্বর্ণপদকও রয়েছে। কবিতার প্রাপ্ত পদকের সংখ্যাও চারটির বেশি নয়। এখন থেকে সব পদক বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে আর কখনো তারা খেলাধুলায় অংশ নিতে পারবেন না। ফলে, নারীরূপে তাদের আর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকবে না।

