বিরোধী দলের প্রতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধানের জন্য ছয় মাসের আলটিমেটাম দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যদি বিরোধী দল এ সময়ের মধ্যে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারে, তাহলে সরকার সেটি স্বাগত জানাবে। তবে যদি তারা ব্যর্থ হয়, তখন জনগণের কাছ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। বিভ্রান্তি ও অযৌক্তিক রাজনীতি পরিহার করে কার্যকর পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাস্তাঘাটে ভাঙচুরের রাজনীতি এখন শেষ, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবসম্মত সমাধানে মনোযোগ দিন।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়, কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, দলের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রস্তাবনা ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বিভিন্ন দফা অনুযায়ী স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি দিক দিয়ে প্রস্তুত করা।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী জানতেনই না যে, এগুলো ইতোমধ্যেই টেবিলে রয়েছে। এনসিপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি ১৫ দফা পরিকল্পনা দিয়েছেন, যেখানে সমস্যার মূল কারণগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখনো পর্যন্ত সরকারের উচ্চপর্যায়ের কোনো সদস্য এসব বিষয়ে অবগত হননি, যা দুঃখজনক ও লজ্জাজনক।
তিনি প্রশ্ন করেন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীসহ মোট ৬২ জনের দলে কেউ কি কোনো নাগরিক মতামত বা বিরোধী দলের প্রস্তাবনা পড়েছেন? গণতন্ত্রের জন্য এটা এতোই দৃষ্টিকটুভাবেই মূল্যায়িত হচ্ছে যে, কার্যকর পদক্ষেপে এগোতে তারা অক্ষম।
হাসনাত বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সমাধানে প্রতিবেদন ও পরিকল্পনার পাশাপাশি, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা ও অক্ষমতার কারণে ফুয়েল প্ল্যান, কনটিনজেন্সি প্ল্যান ও ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান অপ্রচলিত ও অপ্রকাশিত।
অতিরিক্ত তিনি বলেন, ডলার ও বকেয়ার কারণে বিদ্যুৎ কেনার ক্ষেত্রে অসুবিধা হচ্ছে। এর সমাধানে, ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’ এখনো কেন কার্যকর নয়, সেটিই প্রশ্ন। এই নীতির আওতায় বেসরকারি সংস্থা সরাসরি শিল্প ও ভোক্তার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে, যা উদ্যোগে রাশটের খরচ কমিয়ে আনবে এবং সরকারের খরচে কোনো বাড়তি চাপ পড়বে না। এর জন্য কেবল SLA চূড়ান্ত ও হুইলিং চার্জ নির্ধারণের প্রয়োজন, যা কেবল প্রশাসনিক কাজ।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপলব্ধ থাকা সমাধানগুলোর কথা উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, তারা এগুলো অজ্ঞাত বা উপেক্ষা করেছেন। ছয় মাস সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে, এটা সরকারের ব্যর্থতা বলে গণ্য হবে। তিনি বলেন, অযোগ্য ও অপ্রতুল মন্ত্রীদের দ্বারা ‘নিরাপদ পরিকল্পনা’ নয়, বরং এটি ‘নিরুপায়তা’-র প্রকাশ। একজন সচেতন গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে চ্যালেঞ্জের বদলে, তার নিজস্ব ক্ষমতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এগোতে হবে।
সর্বশেষ তিনি বলেন, সমাধান আমাদের হাতে, তবে ক্ষমতা আপনার হাতে। ছয় মাসের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, জনগণ জানতে পারবে, কেন দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল।
