প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাসিক মূল বেতনের দশ শতাংশ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি দেশের উন্নয়ন ও জনসেবায় অংশীদারিত্বের এক নতুন নজির স্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর মাসিক মূল বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, যার ১০ শতাংশ হিসেবে তিনি প্রতি মাসে ১১ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি খাতে জমা দিচ্ছেন। ছয় মাসে এই অর্থের মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৯ হাজার টাকা, আর এক বছরে তা ছাড়িয়ে যায় ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকায়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি সরকারি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। প্রধানমন্ত্রী এই অর্থ ফেরত দিয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের সমর্থন জানাচ্ছেন এবং দেশের উন্নতিতে তার অংশীদারিত্ব প্রকাশ করছেন। সরকারের উদ্যোগে সম্প্রতি প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে এই তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ই-বুকে বলা হয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারি ব্যয় কমানো, অপ্রয়োজনীয় প্রটোকল ও আনুষ্ঠানিকতা হ্রাস, এবং জনকল্যাণে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, সরকারি অনুষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার বন্ধ, রাজনৈতিক নেতাদের ছবি সরানো এবং অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা কমানোর কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও অপ্রয়োজনীয় নেতাদের ছবি না টাঙ্গানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিদেশ সফরে অতিরিক্ত খরচ কমানো, স্থানীয় পণ্য ব্যবহারে প্রবণতা বৃদ্ধি এবং প্রটোকল সরলীকরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দলের সংসদ সদস্যদের বাড়ি ও গাড়ির সুবিধা বন্ধ, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং প্রটোকল কমানোর মতো নানা পদক্ষেপেও নজর দিয়েছে সরকার। সরকারের মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বার্থের বদলে জনস্বার্থ, ব্যয় কমানো, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিকে আরও সুসংহত করার চেষ্টা চলছে, যেন দুর্নীতি ও অপচয় থেকে মরিচিকা সরিয়ে দেশের উন্নয়ন আরও সুদৃঢ় হয়।

