আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জানিয়েছেন ছেলে আশিকুর রহমান আছিফ (২২), বিএনপি সমর্থক এবং আগৈলঝাড়া উপজেলার নগরবাড়ি গ্রামে বাস করে এমন তার বাবা কবির হোসেন রনি, যিনি আগৈলঝাড়া থানার জাসাসের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, সৎকারের পর বছর দশেক আগে পুলিশ ‘ক্রসফায়ারে’ তার জীবন হারান। আছিফ বলেন, তার বাবার বিরুদ্ধে বরিশাল-১ আসনের তখনকার সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ক্ষোভ ছিল, কারণ তার বাবা রাজনৈতিকভাবে বিএনপি’র সাথে জড়িত ছিলেন। এরই জের হিসেবে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার বাবা ও এক স্বজন টিপু হাওলাদারকে পুলিশ হত্যা করেছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
বুধবার ট্রাইব্যুনাল-২-এ ১৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন আশিকুর রহমান আছিফ। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, তার বাবার বিরুদ্ধে প্রচারণা ও হুমকি দেওয়া হয়েছিল, যার জন্য তিনি পরিবারসহ ঢাকার আশুলিয়ার কুড়গাঁওয়ে এসে থাকছিলেন। ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, তার বাবাকে কুড়গাঁওয়ের বাসা থেকে ডিবি পরিচয় দেওয়া ১২-১৩ জন লোক তুলে নিয়ে যায়, এবং বলেছিল তাদের নির্দেশ দিয়েছেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। এরপর, ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে, টেলিভিশনে খবর দেখে জানতে পারেন, তার বাবা ও টিপু হাওলাদার পুলিশি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।
আছিফ আরও বলেন, “রাজনৈতিক বিদ্বেষের কারণে, তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ ইহসানুল্লাহর নেতৃত্বে এএসআই মাহাবুল ও জসিমের মাধ্যমে তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে।” দাফনের সময়ও তার পরিবারের উপর হুমকি আসছিল, যাতে তারা দ্রুত সেই এলাকা ত্যাগ করে। তিনি ট্রাইব্যুনালে দেখান, জমা দেওয়া জব্দ তালিকার পাতায় তার পিতার রক্তাক্ত লাশের ছবি।
আছিফ অভিযোগ করেন, সকলেরই জানা, ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের আমলে বিরোধী দলকে নির্মূল করার জন্য, বাংলাদেশে গুম ও খুনের আপন প্রচলন ছিল। বরিশালে আরও ৫-৬ জনকে একইভাবে ‘ক্রসফায়ার’ নামে হত্যা করা হয়েছে। এই মামলার আসামি হিসেবে বর্তমানে গ্রেফতার চালিয়ে কারাগারে আছেন উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মোঃ মাহাবুল ইসলাম ও এএসআই জসিম উদ্দিন। তবে মূল অভিযুক্ত, সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও সাবেক এসপি এ কে এম এহসান উল্লাহ বর্তমানে পলাতক।
অপর হোতা দুইজন খুনের শিকার হলেন—আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার ও উপজেলা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা। প্রসিকিউশনের বক্তব্য, ওই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্মূল করা। তারা বলছে, শহরের বাইরে রাতে ‘ক্রসফায়ার’ নাটক সাজিয়ে, কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং ওই সময়ের এসপি এহসান উল্লাহ এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে তাদের বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। এই মামলার মাধ্যমে, রাজনৈতিক বিরোধের নামে হত্যা ও গুমের ন্যায্য হিসাব চায় পরিবার ও এলাকাবাসী।
