দেশে চারটি আলোচিত খুনের ঘটনার পর রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদকে সরানো হয়েছে। তার স্থানে নতুন করে এসবির ডিআইজি মু. মাহবুবুর রশীদকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের পাশাপাশি র্যাব, ডিএমপি, পিবিআই, সিআইডি, এসবি ও এপিবিএন পুলিশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারও বদলি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক তিন প্রজ্ঞাপনে এই পরিবর্তনগুলি ঘোষণা করা হয় মঙ্গলবার।
প্রজ্ঞাপনের একটিতে পিবিআইয়ের ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবিরকে র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডিআইজি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবীরকে পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি করা হয়েছে।
অন্য এক প্রজ্ঞাপে রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়াকে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদোন্নতিসহ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এপিবিএনের পুলিশ সুপার নাজমুল আলমকে ডিএমপিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিমকে এপিবিএন ও খাগড়াছড়ির ট্রেনিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
আরেকটি প্রজ্ঞাপনে এসবির ডিআইজি মু. মাহবুবুর রশীদকে রংপুর মহানগর পুলিশের নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে সাবেক পুলিশ কমিশনার আসলাম উদ্দিনকে পুলিশ সুপার থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়। একইসঙ্গে নোয়াখালী পিটিসির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নূরুল আমিনকে খাগড়াছড়ি এপিবিএনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
আরেক প্রজ্ঞাপনে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বরের আদেশ অনুযায়ী জারি হওয়া অভ্যন্তরীণ নিয়ম অনুযায়ী, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. কামরুজ্জামানকে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে বদলি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি, গত ৫ মে জারি করা আদেশে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামীকে নড়াইলের পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছিল, সেটিও বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কিছু কর্মকর্তাকে পুলিশ সুপার পদ মুক্ত বদলি করা হয়েছে। এতে জামিনত এপিবিএনের পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেনকে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার, এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেনকে পিবিআইয়ে, আরপিএমপি প্রতিনিধি মো. আবদুর রহমানকে পিবিআইয়ে এবং পিবিআইয়ের মো. জাফর হোসেনকে সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়।
অন্তর্ভুক্ত আলোচিত এই তালিকায় আরও রয়েছে, পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদকে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, গাজীপুরের ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট এস এম সিরাজুল হুদাকে ঝিনাইদহে, মো. খালেদ-উজ-জামানকে সিআইডিতে, এস এম রফিকুল ইসলামকে এপিবিএনে এবং সিলেট এসএমপির উপ-কমিশনার মো. রিয়াজুল কবিরকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

