বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকা তামিম ইকবাল সম্প্রতি একটি বিষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দেখেছেন, মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ব্যবহৃত টয়লেটের অবস্থা কতটা অবহেলিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত। তামিম জানান, যেখানে ২০০৭ সালে স্টেডিয়ামটি তৈরি হয়, এর পর থেকে এখনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি। তিনি বলেন, আমি স্টেডিয়ামের টয়লেট দেখার জন্য Gelände গিয়ে দেখতে পেলাম, পরিচ্ছন্নতাকর্মী নারীদের বেতন কতটা ন্যূনতম কারণে কম দেয়া হয়। একটি বিষয় আমাকে খুবই ক্ষুব্ধ করেছেন, তারা প্রতিদিন মাত্র ৩০০ টাকা বা ৪০০ টাকা আয় করেন। অথচ তাদের কাছ থেকে আরও বড়ো অংকের টাকা চুরি বা যার ফলে তারা অসুবর্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই দুর্নীতি আমার জন্য একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।
তামিম ব্যাখ্যা করেন, তিনি যখন গ্যালারিতে গিয়ে দেখেন এবং সেখানে উপস্থিত নারীদের সঙ্গে কথা বলেন, তারা জানান, প্রতিদিন তারা মাত্র ৩০০ টাকাই পান। একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, আমাদের এই মানে ৬৫০ টাকা দেয়, কিন্তু কেন আমাদের থেকে এত কম টাকা নেয়ার ব্যাপার হলো, সেটি বুঝতে পারছেন না। এই দুর্নীতির ব্যাপারে সবাই জানে, কিন্তু তা সত্ত্বেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এই পরিস্থিতি দেখে খুবই কষ্ট হয়, কারণ এখানকার নারীরা প্রতিদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে থাকেন, কিন্তু তাদের মাসিক আয়ের অর্ধেক বা তার থেকেও কম টাকা থেকে লোপাট করা হয়।
তামিম আরও জানান, দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে এই স্টেডিয়ামে কোনো বড় ধরনের সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি। তিনি বলেন, যখন এটি তৈরি হয়েছিল, তখন থেকেই সময়ের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে কোনো নজরদারি হয়নি। এক পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন, তারা প্রতিদিন মাত্র ৩০০ টাকা করে পান, যা তাদের বেঁচে থাকার জন্য খুবই অপ্রতুল। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশ থেকে আসা একজন নারী, যারা বাংলাদেশে এসেছেন অভিযোগ করতে, বলেছেন, ওয়াশরুমের অবস্থা খুবই খারাপ। তাঁর কথায়, ‘ভাইয়া, যদি এই সব ওয়াশরুমগুলো ঠিক করা যায়, খুব ভালো হতো।’
তামিম সতর্ক করে বলেন, অযাচিত দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, যদি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পারিশ্রমিকের বিষয়ে অফিসিয়াল মাল্টি-প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পর্যাপ্ত অর্থ না পায়, তাহলে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করবো এবং ভবিষ্যতে কোনোভাবেই এইসব কাজে স্থান দেব না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সবার সামনে একজন উল্লেখ করেন, ‘‘আমি চাই, এই সিরিজের মধ্যে ৩০ নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে বলব, তাদেরকে আমার জন্য ৫০০ টাকা করে দিতে।» আর তাই, অফিসিয়াল চুক্তি মানা না হলে বা অনিয়ম চলমান থাকলে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তামিম।

