চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় দেশের ক্রিকেট মহলে তীব্র অসন্তোষ ও নিন্দার ঝড় বইছে। ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা; বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ক্রিকেটার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) দোষীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি ঘটনাটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও গভীরভাবে উদ্বেগজ্ঞাপনযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, আইন প্রণয়নকারী সংস্থার কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে নাঈমকে হয়রানি ও হেনস্তার অভিযোগ তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে এবং বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন মনে করছে। বিসিবি আরও জানিয়েছে, নাঈম ও তার পরিবারের সঙ্গে তারা ঘন যোগাযোগ রেখেছে এবং চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছেন।
ঘটনাটির রাতে নাঈম থানায় বিষয়টি জানালে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ও পরিচালক ইসরাফিল খসরু বিষয়টির তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নমুনা নিয়েছিলেন বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।
কোয়াবও এক বিবৃতিতে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িত প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছে। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন নাঈমের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত করেছেন যে দেশের সব ক্রিকেটার তার পাশে রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা নাঈমকে সমর্থন জানিয়ে দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘‘মাথা উঁচু রাখো, নাঈম। তুমি অসাধারণ একজন মানুষ। এমন আচরণ পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।’’ তিনি দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার কামনা করেছেন।
অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমও ফেসবুকে বলেছেন, ‘‘নাঈমের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা আমি মেনে নিতে পারছি না। আমি নাঈমের পাশে আছি এবং সুষ্ঠু বিচার দাবি করি।’’ ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। পেসার তাসকিন আহমেদ ও স্পিনার তাইজুল ইসলামসহ অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাঈমের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে শনিবার সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম খুলশী থানায় মারধর ও অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগের পর অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নাঈমের ক্রিকেটিগত কৃতিত্বও স্মরণীয়: বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট অভিষেকে সবচেয়ে কম বয়সে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড তার। ১৪ টেস্টে তিনি ৪৮ উইকেট নিয়েছেন এবং চারবার ফিফার রয়েছে তার নামে। কয়েক দিনের মধ্যে তিনি জিম্বাবুয়ে সফরে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।
ঘটনাটি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীর মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। বিসিবি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর লোকজন দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আশা রেখেছে।