বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি গোয়ালঘর থেকে প্রায় ১০ লাখ শলাকা নকল ডারবি সিগারেট ও আরও কয়েক লাখ মূল্যমানের সিগারেট তৈরীর মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযানটি শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় মোরেলগঞ্জ পৌরসভার সানকিভাঙ্গা গ্রামের ক্রাউন টোবাকো ইন্ডাস্ট্রিজ সংলগ্ন ওই গোয়ালঘরে চালানো হয়।
বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ একযোগে অভিযান চালিয়ে বস্তাবন্দি কোটি প্রান্তের সিগারেটসহ সিগারেট তৈরির যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য চোরাই মালামাল জব্দ করে। একই সাথে মোরেলগঞ্জ থানা পুলিশও চুরি হয়ে আসা সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহমুদুর রহমান এ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অভিযানে জেলা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম, সহকারী কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন, মোরেলগঞ্জ থানার এএসআই উত্তম কুমার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাস্থলে এলাকার ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও ছিলেন— যার মধ্যে গ্রীন বাংলা টোবাকো’র মালিক বাবু সোমনাথ দে ও ব্রিটিশ-আমেরিকা টোবাকো’র মোরেলগঞ্জ-শরণখোলার বিক্রয় এজেন্ট মাসুদ করিম টিটুও ছিলেন।
গ্রীন বাংলা টোবাকো’র মালিক সোমনাথ দে জানান, গত আগস্ট মাসে তার কারখানা থেকে সিগারেট তৈরীর যন্ত্রসহ বহু মালামাল চুরি হয়েছিল। পরে তিনি বাগেরহাট আদালতে মামলা করলে আদালত মালামাল উদ্ধারের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশপত্র নিয়ে শনিবার পুলিশের এই অভিযান চালানো হয় এবং কিছু চোরাই মালামাল উদ্ধার হয়; তিনি আশা করেন আরও মালামাল উদ্ধার হবে।
মাসুদ করিম টিটু অভিযোগ করেন, ক্রাউন টোবাকো ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক বদরুল আলম দীর্ঘদিন ধরে রাতের আধারে অবৈধভাবে ব্রিটিশ-আমেরিকা টোবাকো’র ডারবি সিগারেটের নকল কপি তৈরি ও বাজারজাত করে আসছিলেন। আজ তার কারখানার পাশের ওই গোয়ালঘরে কমপক্ষে ১০ লাখ শলাকা নকল ডারবি সিগারেট পাওয়া গেছে, বলেন তিনি।
ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া সিগারেটগুলোর পরিমাণ বিপুল, প্রাথমিকভাবে এগুলো নকল ডারবি বলে মনে হচ্ছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মোরেলগঞ্জ থানার ওসি মো. মাহমুদুর রহমান জানান, অভিযানে ক্রাউন টোবাকো ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক ও সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মীকে পাওয়া যায়নি; কারখানায় তালা ছিল এবং সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে গিয়ে মোবাইল ফোনও বন্ধ করে রেখেছেন।
ঘটনাস্থল থেকে এএসআই উত্তম কুমার জানিয়েছেন, অভিযান এখনও চলছে এবং আরও কিছু চোরাই মালামাল উদ্ধার হতে পারে। পুলিশ এখনো ওই এলাকায় অবস্থান করছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের তল্লাশি অব্যাহত রাখছে।