ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আজ আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের লক্ষ্যে সংগঠনটি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং দ্রুত রিপোর্ট দাবি করেছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখার সহকারী সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেনের সই করা এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ধানমন্ডিতে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং হামলাকারীদের সনাক্তের চেষ্টা চলছে।
জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, তদন্তে দেখা হবে ঘটনাটির পেছনে সংগঠনের কোন স্তরের কেউ জড়িত ছিল কি না এবং এমন কোনো কৃত্য সংগঠনের অনুষ্ঠান বা কর্মসূচির ছত্রছায়ায় সংঘটিত হয়েছে কি না। এ কারণে ঢাকা মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ও ধানমন্ডি জোন পরিচালক অধ্যাপক নূর নবী মানিককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে আগামীকাল বুধবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বক্তব্যের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জামায়াতে ইসলামী স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তাকে সম্মান করে; সংগঠনের কোন স্তরের কর্মী কখনো স্বাধীন সাংবাদিকতার কাজকে বাধাগ্রস্ত করে না এবং ভবিষ্যতেও এ রকম কোনো কাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে জামায়াতের কোনো সদস্য বা সংগঠন সংশ্লিষ্ট ছিল, তাহলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরেকদিকে, হামলার ঘটনায় আহত দৈনিক সকালের রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশিরের শারীরিক খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন হাসপাতালে যান। তিনি আহত সাংবাদিকের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকদের ধৈর্য ও সমর্থনের অনুরোধ জানান।
জানানো হয়েছে, আজ সকাল সাড়ে আটটায় ধানমন্ডি ঝোনের উদ্যোগে আয়োজিত আওয়ামী লীগ বিরোধী এক বিক্ষোভ মিছিলের পরে ব্রিফিং চলাকালে জামায়াতের কর্মীগণ ও কিছু সাংবাদিকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা তীব্র হলে কিছুমাত্র সময়ে হতাহতের মতো হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর সংগঠন নিজস্ব তৎপরতায় ভিডিও ও সাক্ষী প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত করছে।